ঢাকা: দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আমানত ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও সম্পদের পরিমাণ, রফতানি আয় এবং আমদানি নিষ্পত্তিতে কিছুটা দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মাসিক ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স স্ট্যাটিসটিকস (আইবিএফএস)’-এর মে ২০২৬ সংখ্যায় এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। এপ্রিলের তুলনায় এটি সামান্য ০.১৬ শতাংশ কমলেও এক বছরের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ৮.৪৯ শতাংশ। দেশের মোট ব্যাংক আমানতের ২১.৮৫ শতাংশ এখন ইসলামী ব্যাংকগুলোর দখলে।
একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মোট বিনিয়োগ বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। এপ্রিলের তুলনায় ১.২১ শতাংশ এবং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশের মোট ব্যাংক বিনিয়োগের প্রায় ২৪.৫ শতাংশ এখন ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে সম্পদের ক্ষেত্রে কিছুটা চাপ রয়েছে। মে শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা, যা এপ্রিলের তুলনায় ৩.৮০ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ০.২২ শতাংশ কম।
বিদেশি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। মে মাসে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রফতানি আয় এসেছে ৫৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এপ্রিলের তুলনায় ১৯.০৩ শতাংশ এবং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৮২ শতাংশ কম। অন্যদিকে আমদানি নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৯৪ মিলিয়ন ডলার, যা মাসভিত্তিক ২৭.৩৮ শতাংশ এবং বছরভিত্তিক ১৯.৯৩ শতাংশ কমেছে।
প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আহরণে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে মে মাসে এসেছে ৬৫৭ মিলিয়ন ডলার। এটি এপ্রিলের তুলনায় ৪.৯৫ শতাংশ বেশি হলেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য ০.৪৬ শতাংশ কম।
এদিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। মে শেষে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আমানত দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা। বছরে এ আমানত বেড়েছে ১৫.৮৯ শতাংশ। দেশের মোট এজেন্ট ব্যাংকিং আমানতের ৫২.৮৪ শতাংশই ইসলামী ব্যাংকগুলোর দখলে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের পর ইসলামী ব্যাংক খাতে তারল্য সহায়তা, তদারকি জোরদার এবং ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কারণে আমানতকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে সম্পদ, রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সে বাজার অংশীদারিত্ব বাড়াতে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সেবার মান উন্নয়ন, সুশাসন এবং গ্রাহক আস্থা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।