Tuesday 23 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান / আমানতকারী ও আমানত বাড়লেও ঋণ বিতরণ কমেছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ জুন ২০২৬ ২০:০৬ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ২১:৩১

– কোলাজ প্রতীকী ছবি

ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংক-বহির্ভূক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানত ও আমানতকারী সংখ্যা বেড়েছে। তবে কমেছে ঋণ বিতরণের পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের গত মার্চ শেষে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এ খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ১২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ৪৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ।

প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তিন মাস পর অর্থাৎ গত বছরের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত বেড়ে দাড়ায় ৪৯ হাজার ৭৭৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। মার্চ মাসের তুলনায় জুন শেষে আমানত বেড়েছিল ২৮৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

তথ্য মতে, গত বছরের জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বর শেষেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত বেড়েছিল ১ দশমিক ৯১ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত বেড়ে দাড়ায় ৫০ হাজার ৭২২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

আর গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর শেষে আমানত বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত বেড়ে দাড়ায় ৫১ হাজার ১২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ধারাবাহিক বাড়ছে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীর সংখ্যাও।

তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ শেষে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬ লাখ ২২ হাজার ৭২৬টি। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৮২টি। সেই হিসাবে তিন মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫১ হাজার ৩৪৪ টি বা ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

তথ্য মতে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০৭ টি। আর তিন মাস পর অর্থাৎ একই বছরের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৪ লাখ ৮০ হাজার ১৬৩টি বা ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

এছাড়া, গত বছরের জুন মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছিল ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তথ্য মতে, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮২৫টি। আর সেপ্টেম্বরের তুলনায় গত বছরের ডিসেম্বর শেষে আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছিল ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৮২টি।

তবে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত এবং আমানতকারীর সংখ্যা বাড়লেও চলতি বছরের মার্চ শেষে কমেছে ঋণ বিতরণ।

তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ শেষে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ৮২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণ কমেছে ৪০৪ কোটি ৩ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এনবিএফআই খাতের বর্তমান স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি একদিকে ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিগুলো স্পষ্ট করছে। আমানতে সামান্য প্রবৃদ্ধি হলেও এটি মূলত স্বল্পমেয়াদি আস্থা পুনরুদ্ধারের ফল। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য এই খাতকে আরও স্বচ্ছতা, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর তদারকির আওতায় আনতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর