ঢাকা: দেশে পরিকল্পনাহীনভাবে জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণের কারণে একসময় গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ৩০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, বর্তমানে স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমগুলোর প্রায় ৪৭ শতাংশ অকেজো অবস্থায় রয়েছে, যা পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক সেমিনারে ‘এসএইচএস সার্ভে ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহকারী আতিকুজ্জামান সাজিদ। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণায় বলা হয়, ২০০৩ সালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকার অর্থায়নে দুর্গম ও বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি চালু করে। এর মাধ্যমে দুই কোটির বেশি মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসে। ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৫৩ হাজার সোলার সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসূচিটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে।
তবে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া দ্রুত জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণের ফলে গ্রাহকদের মধ্যে সোলার ব্যবহারের আগ্রহ কমতে থাকে। এর ফলে ২০১৮ সালে নতুন সোলার স্থাপনের সংখ্যা আগের তুলনায় ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমে মাত্র ৩ হাজার ৪৫৫টিতে নেমে আসে।
সিপিডি’র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ সোলার হোম সিস্টেমের উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় গ্রাহকেরা জাতীয় গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। একই সময়ে মাঠ পর্যায়ে ঋণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও পূর্বঘোষণা ছাড়া গ্রিড সম্প্রসারণ করায় সহযোগী এনজিও ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, অকেজো হয়ে যাওয়া সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি গ্রামীণ এলাকায় পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করছে। অথচ এসব সিস্টেমকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহারের জন্য কোনো কার্যকর রূপান্তর নীতিমালা গড়ে ওঠেনি।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোনো সোলার হোম সিস্টেমগুলোকে হাইব্রিড বা গ্রিড-টাইড ব্যবস্থায় রূপান্তরের সুপারিশ করেছে সিপিডি। পাশাপাশি সোলার প্যানেল ও ইনভার্টারের ওপর শুল্ক কমানো, নেট মিটারিং পদ্ধতি সহজ করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়ানো এবং সোলারের কার্যকারিতা তদারকিতে একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।