ঢাকা: জাতীয় সংসদে নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর। একই সঙ্গে এই অনভিপ্রেত বক্তব্যের জন্য তার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে দলটি।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর ও প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয়ের সই করা এক বিবৃতিতে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। সেখানে কোনো নারী জনপ্রতিনিধির পোশাক, ধর্মীয় অনুশীলন বা ব্যক্তিগত পরিচয়কে বিদ্রুপ ও অবমাননার বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক নারী সমাজের মর্যাদা ও সম্মানের পরিপন্থি।
সংসদীয় সংস্কৃতির বিষয়টি উল্লেখ করে এনসিপি নেতারা বলেন, সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে কারও ব্যক্তিগত পোশাক বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে বিদ্রুপের বিষয় বানানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের মন্তব্য সংসদীয় ঐতিহ্য ও নারীর প্রতি প্রয়োজনীয় সম্মানবোধের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নারী তার নিজস্ব বিবেক, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোশাক নির্বাচনের পূর্ণ অধিকার রাখেন এবং এই অধিকারকে সম্মান করা একটি গণতান্ত্রিক ও সহনশীল সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। তবে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও পোশাক নির্বাচনের অধিকারের বিষয়টি সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপনের জন্য ডেপুটি স্পিকারের অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে দলটি।
জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিবৃতিতে দলটি দাবি জানায়, মনিরুল হক চৌধুরী তার মন্তব্যের জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণ, নারীসমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে যেন নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বক্তব্য জনমনে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। তাই এই ধরনের অনভিপ্রেত মন্তব্যের দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার একটি অন্যতম অংশ।