Tuesday 09 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

উন্নয়ন কৌশলে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হওয়া উচিত: বিমসটেক মহাসচিব

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
৯ জুন ২০২৬ ২০:০৫ | আপডেট: ৯ জুন ২০২৬ ২১:০৮

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেছেন, আমাদের তরুণদের কণ্ঠস্বর, ধারণা ও আকাঙ্ক্ষাগুলো আমাদের সব উন্নয়ন কৌশল ও উদ্যোগে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। সেটা দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন উদ্যোগে হোক, দেশগুলোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে হোক। সব তরুণ অংশগ্রহণকারীকে আমি গতানুগতিক চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করা অব্যাহত রাখতে, উদ্ভাবনকে গ্রহণ করতে এবং বিভিন্ন খাত ও সীমান্তের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করছি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-বিআইআইএসএস মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালয় (ইউএনওপিএস) যৌথভাবে ‘তরুণ নেতৃত্ব, টেকসই ভবিষ্যৎ: একসঙ্গে এসডিজি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করে।

সেমিনারে নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন কর্মী, শিক্ষাবিদ, যুব নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদাররা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তরুণরা কীভাবে একটি রূপান্তরমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।

এতে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিআইআইএসএসের রিসার্চ ফেলো রাফিদ আবরার মিয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ এবং বাজেট ও নীতি কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম তাদের উপস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি অর্জনে যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবন এবং নীতিনির্ধারণী সম্পৃক্ততার ভূমিকার ওপর আলোচনা করেন।

বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এএসএম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত ভাষণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন যাত্রায় মূল অংশীদার হিসেবে তরুণদের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যেখানে তরুণরা নীতি আলোচনা, উদ্ভাবন ও কমিউনিটি পর্যায়ে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমসটেক-এর মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর (এসডিজি অ্যাফেয়ার্স) অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল।

ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরণ স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি টেকসই উন্নয়নের জন্য যুব সম্পৃক্ততা, এসডিজি স্থানীয়করণ এবং বহু-অংশীজন অংশীদারিত্বকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ইউএনওপিএসের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মুরালিধরণ তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, তরুণরা কেবল উন্নয়নের সুবিধাভোগীই নয়, বরং পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার এবং চালিকাশক্তি। তিনি ২০৩০ এজেন্ডার অভিমুখে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে যুব নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা এবং অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ইন্দ্র মণি পান্ডে বিমসটেক অঞ্চলজুড়ে অভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং যুব সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল-আওয়াল এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত অঙ্গীকার এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুব দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, এসডিজি অর্জনের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন অংশীদার, শিক্ষাঙ্গন, নাগরিক সমাজ সংগঠন, বেসরকারি খাত এবং যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন। এসডিজি স্থানীয়করণ প্রচেষ্টায় যুবকদের অংশগ্রহণ জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নের নেতা হিসেবে তরুণদের ক্ষমতায়নকারী সহযোগিতামূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।