Thursday 04 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রামিসা হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক আজ

স্টাফ করেসপন্ডেট
৪ জুন ২০২৬ ১১:৫০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২৬ ১৩:৩৩

কোলাজ ছবি: প্রধান আসামি সোহেল রানা , ইনসেটে শিশু রামিসা

ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ে। মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১১টায় শুরু হয়েছে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত যেকোনো দিন রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন।

আদালত সূত্র জানায়, প্রধান আসামি সোহেল রানা ও সহআসামি স্বপ্না আক্তারকে সকালে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে। শুনানি শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এদিন আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ওই দিন বিচারক মামলার সাক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগও আদালতে তুলে ধরা হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় সোহেল রানা প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, আমি অপরাধ করেছি, আমাকে মাফ করে দিন। একই সঙ্গে তিনি ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির কথাও উল্লেখ করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত নথি কিংবা তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এ নামের কোনো উল্লেখ নেই।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সোহেল রানার আদালতে দেওয়া বক্তব্য মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে। তার মতে, শেষ পর্যায়ে এসে নতুন কোনো নাম উল্লেখ করা বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার কৌশলও হতে পারে।

অন্যদিকে সহআসামি স্বপ্না আক্তার আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন।

ঢাকা মহানগর আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া বিচার করে যে রায় আসবে, তা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে।

মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। শিশু হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। এছাড়া তদন্তে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়।

তদন্ত শেষে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ এনে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতকে অভিযোগপত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর