Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফরিদপুরে লিচু চুরিতে বাধা দেওয়ায় মালিককে পিটিয়ে হত্যা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ মে ২০২৬ ০৯:৩০ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ০৯:৩৭

ফরিদপুর: ফরিদপুরের সালথায় বাগান থেকে লিচু চুরি করার সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. আজিজুল মোল্যা (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজুল মোল্যা ফুলবাড়িয়া গ্রামের গুপিনগর পাড়ার মৃত মানো মোল্যার ছেলে।

এদিকে আজিজুলের মৃত্যুর পর থেকে তার পক্ষের লোকজন হামলাকারীসহ তাদের সমর্থকদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে জানা গেছে। রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার বিকালে ফুলবাড়িয়া গ্রামে আজিজুলের বাগান থেকে গোপনে লিচু চুরি করছিল পার্শ্ববতী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে সাকিল মুন্সি ও তুষার মুন্সি। এ সময় লিচু পাড়ায় বাধা দেয় বাগান মালিক আজিজুলের ছেলে আকরাম মোল্যা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকরামকে মারধর করে সাকিল ও তুষার।

ঘটনার পর সন্ধ্যায় আজিজুল স্থানীয় ফুলবাড়িয়া বাজারে গিয়ে সাকিল ও তুষারের কাছে তার ছেলে আকরামকে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তারা তর্কের জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আজিজুলের উপর হামলা চালায় তুষার ও সাকিল। তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে আজিজুলকে মারধর করলে তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে। পরে বাজারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আজিজুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরাসহ তাদের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। রাত ১০ পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ জানান, লিচু পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে মারধর করার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। দ্রুতই হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর ফুলবাড়িয়া এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে সালথা থানা পুলিশ অবস্থান করছে। এ ছাড়াও জেলা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর