Sunday 19 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সুনামগঞ্জে ৩০০ কেজি সরকারি বই পাচারের অভিযোগে মাদরাসার দফতরি আটক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪০

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সরকারি বিপুল পরিমাণ পাঠ্যপুস্তক বিনা অনুমতিতে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা দফতরির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দফতরি শহীদুল ইসলাম দিরাই পৌর শহরের হাজী মাহমদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় কর্মরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে দফতরি শহীদুল ইসলাম মাদরাসার একটি কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ বই ভ্যানগাড়িতে করে ভাঙারি দোকানে পাঠানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তা দেখে ফেলেন। যুবকরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দফতরি শহীদুল ইসলাম অভিযুক্ত যুবকদের টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে যুবকরা তার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে বাগবাড়ী গ্রামের লোকজন ভাঙারি ব্যবসায়ী রফিকুল মিয়ার কাছ থেকে বিক্রয়কৃত ৪টি বস্তাভর্তি প্রায় ৩০০ কেজি সরকারি পাঠ্যপুস্তক উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। উদ্ধারকৃত বইগুলো ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের (সূত্র অনুযায়ী ২০২৬ উল্লেখ থাকলেও সাধারণত চলতি বা আসন্ন শিক্ষাবর্ষের হয়) বলে জানা গেছে।

ভাঙারি ব্যবসায়ী রফিকুল মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘মাদরাসার দফতরি শহীদুল ইসলাম আমার কাছে বইগুলো বিক্রির প্রস্তাব দিলে আমি ভ্যান নিয়ে মাদরাসায় যাই এবং তার কাছ থেকে বইগুলো কিনি।’

অভিযুক্ত দফতরি শহীদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং সরাসরি দেখা করবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে হাজী মাহমদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহোদয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ নিয়ে আমরা জরুরি সভায় বসবো।’

দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সনজীব সরকার বলেন, ‘সরকারি বই বিক্রির বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, বই চুরির এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর