ঢাকা: দেশের ব্যাংক খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক এর পরিচালক (এসএমই এন্ড স্পেশাল পোগ্রামস ডিমার্টমেন্ট) নওশাদ মোস্তফা। একই সঙ্গে তিনি বলেন,ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাতের সমন্বয় : ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি তথ্যের অসংগতি। সরকারের লক্ষ্য যেখানে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সেখানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে প্রায় সমসংখ্যক বেকারের উপস্থিতি নীতিনির্ধারণকে জটিল করে তুলছে। এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি দূর না হলে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা মত দেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে ‘প্রাইভেট ক্রেডিট ব্যুরো’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে লেটার অব ইন্টেন্ট ইস্যু করেছে। তবে এই উদ্যোগকে কার্যকর করতে ওয়াসা, ডেসকো, ডেসসা, বিপিডিসি এবং গ্রামীণফোন ও রবির মতো টেলিকম অপারেটরদের তথ্যের সঙ্গে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সংযোগ গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করা হয়।
তিনি জানান,এছাড়া, ২০২৩ সালে পাস হওয়া আইনের আওতায় গাড়ি বা মোটরসাইকেলের মতো অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখনও প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রি চালু হয়নি। দ্রুত এই রেজিস্ট্রি চালুর দাবি জানান, যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সহজে অর্থায়নের সুযোগ পান।
ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে সেই ব্যাংকগুলোই টিকে থাকবে যারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াবে। শুধুমাত্র বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা ব্যাংকগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানানো হয়।