Tuesday 07 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পুকুরে বিষ প্রয়োগ, পাশের খামারের ৩ শতাধিক হাঁসের মৃত্যুর অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০২

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জলাশয়ে মাছ নিধনের বিষ প্রয়োগ করায় তিন শতাধিক ডিমপাড়া হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। চোখের সামনে সন্তানের মতো লালন-পালন করা হাঁসগুলো মারা যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বয়োবৃদ্ধ খামারি ও তার স্ত্রী।

সোমবার (৬ এপ্রিল) উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড নতুন পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারি শামসু মোল্লা (৭৩) এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শামসু মোল্লা জানান, উজানচর নতুনপাড়া এলাকায় চার মাস আগে হাঁসের খামার শুরু করেছিলেন তিনি। খালাতো ভাই সোহেলের পুকুরে প্রায় ৭০০ বাচ্চা ও ৪০০ বড় হাঁস লালন-পালন করছিলেন। একই এলাকায় পাশের একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন ঠান্ডু নামে এক ব্যক্তি। গত ৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঠান্ডু নিজের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ তুলে নেন। বিষ দেওয়ার কথা আগে জানালে সেদিন হাঁস ছাড়তাম না আমি। পরদিন সকালে বিষাক্ত পানিতে গিয়ে খাবার খায় হাঁসগুলো। এরপর দুপুর থেকেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে সেগুলো এবং সন্ধ্যার আগেই মারা যায় প্রায় ৩০০ হাঁস। চোখের সামনে সন্তানের মতো লালন করা হাঁসগুলো হারিয়ে শোকাহত শামসু মোল্লা ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম। কোনোভাবেই থামছে না তাদের কান্না আর আহাজারি।

বিজ্ঞাপন

শামসু মোল্লা বলেন, ‘আমার বয়স ৭৩ বছর। এই বয়সেও আমি ভিক্ষা করি না কিংবা কারও কাছে হাত পেতে খাই না। হাঁসের খামারের মধ্য দিয়ে কর্ম করে খাই। আমার সন্তানের মতো হাঁসগুলো লালন-পালন করি। ঠান্ডু ও তার ম্যানেজার ছাত্তার আমার সন্তান মেরে ফেলেছে, আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। সবেমাত্র হাঁসগুলো ডিম দেওয়া শুরু করেছে। তারা আমার সাত লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। এর চেয়ে আমাকে মেরে ফেললে ভালো হতো।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মান্নান ওরফে ঠান্ডু মুঠোফোনে জানান, আমার পুকুর তো আমি দেখাশোনা করি না দেখাশোনা করে সাত্তার। পুকুরে মাছ ধরার জন্য গ্যাস ট্যাবলেট ব্যবহার করেছিল আরও দুদিন আগে। তার হাঁস মারা গিয়েছে কিভাবে তা তো আমি জানিনা।

ছাত্তার মুঠোফোনে জানান, আমরা পুকুরে মাছ ধরার জন্য অক্সিজেন ব্যবহার করেছিলাম। সেটিতে কখনো হাঁস মারা যাওয়ার কথা না। হাঁসগুলো কিভাবে মারা গেল সেটি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে হাঁসের মালিক সামসু মোল্লা আমাদের কোন কিছু জানায়নি।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সারাবাংলা/এনজে