Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গভর্নর-এফবিসিআই বৈঠক
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি, সুদ হার কমানো ও ইডিএফের আকার বাড়ানোর প্রস্তাব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩২

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা, অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপীদের নীতি সহায়তা প্রদান ও ইডিএফ তহবিলের আকার বাড়ানোসহ ১০ দফা দাবি বা সুপারিশ প্রস্তাব তুলে ধরেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলস্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান-এর সঙ্গে বৈঠককালে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

বৈঠক শেষে এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর সংগঠনের প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

অন্যান্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- সরকারি ঋণ কমিয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি ও উৎপাদনমুখী খাতে অর্থায়ন বাড়ানো; ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পে সহায়তা প্রদানে ঋণ পুনঃতফসিল, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও প্রণোদনা প্যাকেজ চালু; শিল্পখাতে ব্যাংকিং সমস্যার দ্রুত সমাধানে কমিটি গঠন; এসএমই ও নারী উদ্যোক্তা সহায়তা প্রদানে জামানতবিহীন ঋণ ও ব্যাংকে হেল্পডেস্ক চালু; গ্রীন ফাইন্যান্সিং খাতে সৌরশক্তি ব্যবহারে স্বল্পসুদে ঋণ প্রদান; জরুরি বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল গঠন; আমদানি-রফতানি সচল রাখতে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখা ও বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করা; রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা ও সহজ ঋণ সুবিধা চালু; খেলাপি ঋণ কমাতে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা ইত্যাদি।

বিজ্ঞাপন

এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে কাঁচামাল, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের শিল্প খাত চাপে পড়েছে এবং রপ্তানি খাতও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ইডিএফ তহবিলে আগে ৭০০ কোটি ডলার ছিল। বর্তমানে তা ২৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। এরপরও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে যেন ডলারের বাজারে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য আমরা ইডিএফ তহবিলের পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার অনুরোধ জানিয়েছি। গভর্নর কথা দিয়েছেন, তিনি ধীরে ধীরে তা বাড়াবেন।

ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে এফবিসিসিআই মহাসচিব অন্য বলেন, খেলাপী ঋণ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করছে। তাই অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমিয়ে আনা জরুরি। আমরা কখনোই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপীদের পক্ষে নই। তবে ব্যবসায়িক ঝুঁকি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপী হয়েছেন, তাদের জন্য পুনর্বাসনমূলক নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। যাতে করে এসব উদ্যোক্তা পুনরায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন এবং এতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়বে। একইসঙ্গে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যান, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করলে সামগ্রিকভাবে খেলাপী ঋণের পরিমাণ কমে আসবে বলে মনে করে এফবিসিসিআই।

তিনি বলেন, এছাড়া বৈঠকে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার থাকা ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের যেন স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর