Sunday 22 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদ আনন্দে মেতেছে মানুষ, রংপুর চিড়িয়াখানায় উপচে পড়া ভিড়

রাব্বী হাসান সবুজ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ মার্চ ২০২৬ ১৬:২৬ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৯

নগরীর জনপ্রিয় জায়গাগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় জমিয়েছেন হাজারও মানুষ। ছবি: সারাবাংলা

রংপুর: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। মেঘলা আকাশ আর মাঝেমধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সত্ত্বেও দর্শনার্থীরা থামেনি। রংপুর চিড়িয়াখানা, সুরভী উদ্যান, চিকলী ওয়াটার পার্কসহ নগরী ও আশপাশের সব জনপ্রিয় জায়গাগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় জমিয়েছেন হাজারও মানুষ। বিশেষ করে রোমিও-জুলিয়েট বাঘ দম্পতির ছয় মাস বয়সী দুই শাবক রাজা ও রানীকে দেখতে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।

রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রংপুর চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাড়তি স্বস্তি নিয়ে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

নগরীর মর্ডান মোড় থেকে আসা সুমাইয়া ইসলাম বলেন, “বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাচ্চাদের নিয়ে আসতে হয়েছে। ঈদের এই সময়টা আনন্দময় করতে এটুকু তো করতেই হবে। বাঘ আর জলহস্তী দেখে বাচ্চারা খুব আনন্দ পেয়েছে।”

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাচ্চাদের নিয়ে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখাচ্ছেন বাবা-মায়েরা। ছবি: সারাবাংলা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা হিসেবে পরিচিত এই ২২ একরের প্রাণী উদ্যানে এবারের ঈদে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে রাজা-রানী। রয়েল বেঙ্গল টাইগার রোমিও-জুলিয়েটের কোলে জন্ম নেওয়া এই দুই শাবককে দেখার জন্য দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ছে। খাঁচার ভেতর বানরের দৌড়ঝাঁপ, হরিণের ছুটোছুটি, সিংহের গর্জন— সব মিলিয়ে শিশুদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক।

পাগলাপীর থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা রিফাত আহমেদ বলেন, “ঈদে সবাই মিলে ঘুরতে আসার মজাই আলাদা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও পরিবেশ বেশ উপভোগ্য।”

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ভিড় সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। টিকিট কাউন্টার বাড়ানো হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইজারাদার হজরত আলী জানান, “ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি, নামাজের স্থান ও বিশ্রামের পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

চিড়িয়াখানায় রয়েছে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, গন্ডার, জলহস্তী, চিতাবাঘ, ভালুক, কুমির, অজগর, কচ্ছপসহ অর্ধশতাধিক প্রজাতির প্রাণী। পাখির মধ্যে ময়ূর, কাকাতুয়া, টিয়া, ময়না, বক। শিশু পার্কে অর্ধশতাধিক রাইড, ভূতের গুহা, কৃত্রিম হ্রদ— সব মিলিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ বিনোদনের আকর্ষণ।

চিড়িয়াখানা ছাড়াও নগরীর কালেক্টরেট সুরভী উদ্যান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় মোড়, কারমাইকেল কলেজ রোডের লালবাগ মোড়, শাপলা চত্বর, ডিসির মোড়, জিলা স্কুল মাঠ, বটতলা, ক্যান্ট পাবলিক কলেজ সংলগ্ন ফ্লাইওভার, আরএএমসি শপিং সেন্টার চত্বরে গিজগিজ করছে মানুষ। সংস্কৃতি পাড়া খ্যাত টাউনহল চত্বরে সংস্কৃতিকর্মীরা আড্ডা দিয়ে গান-গল্পে মেতে উঠেছেন। সুরভী উদ্যানে শিশুরা রাইডে চড়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত।

নগরীর বাইরে চিকলী ওয়াটার পার্ক, তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর, শিরিন পার্ক, প্রয়াস বিনোদন পার্ক, গঞ্জিপুরের ভিন্নজগৎ, পীরগঞ্জের আনন্দ নগর, কাউনিয়ার তিস্তা পার্ক, মহিপুরঘাট ও তিস্তা সেতুতেও দর্শনার্থীদের ভিড়। ঈদকে কেন্দ্র করে এসব কেন্দ্র নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে, বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর