Sunday 22 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শিশুদের ঈদ আনন্দে রঙিন শিশু মেলা

‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ মার্চ ২০২৬ ১৬:১৯ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ১৭:০৪

রাজধানীর শ্যামলী শিশু মেলা।

‎‎ঢাকা: ক্লান্তিকর নগরজীবনে ঈদের এক চিলতে আনন্দ খুঁজে নিতে রাজধানীর শ্যামলীস্থ ‘শিশু মেলা’ এখন খুদে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন নামাজের পর থেকেই ধীরে ধীরে রঙিন পোশাকে সজ্জিত শিশুদের কলতানে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো প্রাঙ্গণে। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে পরিবারের সঙ্গে নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে নগরবাসী ভিড় জমিয়েছেন এই বিনোদন কেন্দ্রে।

‎রাইডগুলোতে রোমাঞ্চ ও উচ্ছ্বাস
‎মেলার প্রবেশপথ থেকে শুরু করে প্রতিটি কোণ সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। শিশুদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে, রোমাঞ্চকর নাগরদোলা। এতে শিশুর্ ওপর থেকে শহর দেখার ইচ্ছে পূরণ করতে পারছে।

‎সেইসঙ্গে বাম্পার কার ও মিনি ট্রেনে বন্ধুদের সঙ্গে টক্কর আর ঝিকঝিক শব্দের ভ্রমণ ছিল শিশুর অন্যরকম আকর্ষণ।

‎আর বাউন্সি ক্যাসলে লাফিয়ে বেড়ানোর যেন আজ কোনো মানাই ছিল না।

বিজ্ঞাপন

ছবি: সংগৃহীত।

‎প্রতিটি রাইডের সামনে দীর্ঘ লাইন থাকলেও শিশুদের চোখে মুখে ক্লান্তির বদলে দেখা গেছে উপচে পড়া উদ্দীপনা। এক রাইডের রোমাঞ্চ শেষ হতে না হতেই অন্যটিতে যাওয়ার বায়না মেলাকে করেছে প্রাণবন্ত।

‎মেলায় আসা খুদে শিক্ষার্থী সুমাইয়ার কণ্ঠে ছিল জয়ের আনন্দ। সে জানায়, বাম্পার কার আর নাগরদোলায় চড়ে তার ঈদের দিনটি সার্থক হয়েছে। অন্যদিকে, ছোট্ট মালিহার বায়না পূরণ করতে বাবা শরীফ ইসলাম ট্রেনের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তার মতে, শহরে উন্মুক্ত জায়গার অভাবে এই মেলাই আমাদের সন্তানদের জন্য অক্সিজেনের মতো।

‎অভিভাবক শারমিন জাহান বলেন, “সারা বছর পড়াশোনার চাপে থাকা বাচ্চাদের জন্য এই আনন্দটুকুই ঈদের সেরা উপহার। ওদের হাসিমুখ দেখলে আমাদের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।”

‎মেলার ভেতরে ও বাইরে উৎসবের অনুষঙ্গ হিসেবে বসেছে বৈচিত্র্যময় খাবারের দোকান। শিশুদের প্রিয় কটন ক্যান্ডি, আইসক্রিম থেকে শুরু করে চটপটি-ফুচকার দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। হাতে বেলুন আর বাঁশি নিয়ে ছোট ছোট শিশুদের দৌড়ঝাঁপ মেলার পরিবেশকে করে তুলেছে সত্যিকারের উৎসবমুখর।



‎সে সঙ্গে ভিড় সামলাতে মেলা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবেশপথে কড়া নজরদারি রয়েছে। আর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা শিশু নিখোঁজ রোধে সার্বক্ষণিক মাইকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

‎ব্যস্ত ঢাকার যান্ত্রিকতা থেকে ক্ষণিক মুক্তি, আর পরিবারের সঙ্গে সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর জন্য শ্যামলীর এই মেলা যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিকেলের গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও শিশুদের এই আনন্দ মিছিল থামার কোনো লক্ষণ নেই, বরং সময়ের সাথে সাথে উপচে পড়া ভিড় মেলার পরিবেশকে আরও জমজমাট করে তুলছে।

‎সারাবাংলা/এনএল/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর