কুমিল্লা: কুমিল্লা ঈদের আনন্দ শেষ না হতেই কুমিল্লায় ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোববার (২২ মার্চ) ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে যাওয়ার সময় কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ক্রসিং অতিক্রম করছিল। এতে ট্রেনের সঙ্গে বাসটির ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত অন্তত ১৫ জনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন শিশু ও ৩ জন নারী রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। স্থানীয় লোকজনও উদ্ধার কাজে অংশ নেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস জানায়, ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে থাকায় ট্রেনটি অনেক দূর গিয়ে থামে। এতে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। দুর্ঘটনার ফলে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে, পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘সংঘর্ষটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। বাসটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করি এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাই।’
কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’