ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শ্রমজীবী মানুষের মুখে এবার স্বস্তির হাসি ফুটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শুক্রবার (২০ মার্চ সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ, বকেয়া বেতন এবং ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তা যেন এক পরিচিত দৃশ্য ছিল, তবে এবার সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, রফতানিমুখী গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত প্রায় সব শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার বেতন এবং ঈদ বোনাস আগেভাগেই নিশ্চিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশে অধিকাংশ কারখানাই ফেব্রুয়ারির বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান মার্চ মাসের বেতনেরও বড় অংশ প্রদান করেছে।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনা ও নিবিড় নজরদারি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সম্পৃক্ততা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ধারাবাহিক আলোচনা, সমন্বিত পরিকল্পনা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, শ্রমিক সংগঠন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন, যাতে কোনো শ্রমিক তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন এবং ঈদের আনন্দ বিঘ্নিত না হয়।
ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা শনাক্তকরণ, সমস্যা সমাধানে পৃথক কৌশল গ্রহণ, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন এবং নিয়মিত সমন্বয় সভার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ঋণ ও অর্থায়ন নিশ্চিত করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই বহুমাত্রিক উদ্যোগের ফলে শ্রমজীবী মানুষ নির্বিঘ্নে ও স্বস্তির সঙ্গে ঘরে ফিরতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত স্বস্তি নয়, বরং সমষ্টিগত আন্তরিকতার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিষয়েও সমানভাবে দায়বদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যেও প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয় রয়েছে।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শ্রমজীবী মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের এই মমত্ববোধ ও অঙ্গীকার ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।