চট্টগ্রাম ব্যুরো অর্থনৈতিকভাবে ‘খারাপ সময়ের’ মধ্যেও সরকার সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে- বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিম মলিয়াইশ বানাতলী জলদাসপাড়া এলাকার বামনসুন্দর খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে দেশ খুব খারাপ অবস্থায় আছে, আপনারা জানেন। এরমধ্যে আবার যুদ্ধ লেগেছে। এনার্জি ক্রাইসিস হয়েছে। এরমধ্যেও কিন্তু আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু থেমে নেই কিন্তু। আমরা চালিয়ে যাচ্ছি, চালিয়ে যাব। এবং আশা করি বাংলাদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা, আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচিত করেছে আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ইশতেহারে খাল খনন একটি বিশাল কর্মসূচির প্রস্তাব আছে। আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে যতগুলো জনগণের কাছে ওয়াদা করেছি একটার পর একটা বাস্তবায়ন কাজ চলছে। এরমধ্যে খাল খনন কর্মসূচিতে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার আমাদেরকে সম্পন্ন করতে হবে। এখানে ৩ কিলোমিটার আজকে আমরা শুরু করেছি। বাকিটা ক্রমান্বয়ে শেষ করতে পারব।
বামনসুন্দর খালের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ১৫ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় নতুনভাবে আসবে এবং সেই জমিতে আরো ৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বুঝতেই পারছেন, এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার কতটুকু উন্নয়ন হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় যে গ্যাপটা আছে সেটা আমরা পূরণ করতে যাচ্ছি ইনশাল্লাহ। তদুপরি পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা থেকে আমার মুক্তি পাব এবং এখানে সেচের কাজ হবে। সাথে সাথে মাছের চাষও হবে এইখানে।
পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে যে বৃক্ষ রোপন করব সেটাও আমার অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখবে। গাছ লাগানো কার্বন ট্রেডিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের অবদান রাখবে।
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ হলে সমগ্র বাংলাদেশে চিত্র বদলে যাবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “খাদ্যের ঘাটতি কমে আসবে। জলবায়ুর উপর একটা বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে। সেচ ব্যবস্থার পরিবর্তণ আসবে। এই কাজটা জিয়াউর রহমান সাহেব শুরু করেছিলেন। পরিবর্তিতে এটা আমরা শেষ করতে পারিনি। সেই ভাবনায় এই প্রকল্পটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাতে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই খালগুলোর মালিকানা সরকারের। ইতিমধ্যে ডিমারকেশন হয়ে যাচ্ছে। ওই সীমানার ভিতরে যতই প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকার চেষ্টা করবে কোন সুযোগ থাকবে না। যতটুকু সীমানা নির্ধারণ হবে, ততটুকু খাল আমরা খনন করব। কেউ দখল করার কোন সুযোগ থাকবে না।
খাল খনন প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থের সব হিসাব করেই তো আমরা এই কাজটা করতে নেমেছি। সবগুলো বাজেটেড। কস্টেড অ্যান্ড বাজেটেড। এই জন্য আমরা ক্রমান্বয়ে পুরো প্রকল্পগুলো সময়ের উপর আমরা শেষ করতে চাচ্ছি। যখন শেষ হতে থাকবে আপনারা দেখবেন এর প্রভাব অর্থনীতিতে, মানুষের জীবন যাত্রার মানে ও পরিবেশের উপরে।
“পরিবর্তিত রূপান্তরিত বাংলাদেশে যে সরকার এগুলো হচ্ছে তার অংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার যে চেষ্টা সেগুলো হচ্ছে এটা। দুর্নীতি, ওয়েস্টেজ এবং ডেলিভারির মধ্যে যে লিকেজ থাকে সেগুলোকে অ্যাড্রেস করা হয়েছে। প্রত্যেক কিছুকে অ্যাড্রেস করে কিভাবে সব প্রকল্প স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদন করতে পারি এটাই এই সরকারের সবচেয়ে বড় চিন্তা। এবং দুর্নীতিকে বাইরে রেখে সম্পূর্ণভাবে।”
খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “খাল খনন আমাদের কমিটমেন্ট ছিল। আপনারা জানেন, এখানে কাজ শুরু হয়েছে। হাটহাজারীতেও ভঞ্জন খাল এবং মিঠাছড়া খাল খনন করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে যে খাল খনন উদ্বোধন করেছিলেন সেটাই মিঠাছড়া খাল। ওটা অলরেডি সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে তিন কিলোমিটার কাজ হয়ে গেছে। বাকিটাও চলমান আছে। এরকম করে যতগুলো খাল আছে এবং ছোট ছোট ছড়া আছে, এগুলো সব আমাদের ২০ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত।
তিনি বলেন, যখন মাথা ঠিক থাকে, তখন সবই ঠিক আছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে আছেন। এক মাসও হয়নি। এরমধ্যে যত কমিটমেন্ট আছে প্রত্যেকটা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো কমিটমেন্ট আমরা বাস্তবায়ন করব।
অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।