Monday 16 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরে ভিজিএফ কার্ড কেলেঙ্কারি: দলীয়রা নিলেন সিংহভাগ, বঞ্চিত হতদরিদ্ররা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ মার্চ ২০২৬ ১১:২৮

রংপুর: রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির কার্ড বণ্টন নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ইউনিয়ন প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের সই করা ৫ মার্চের একটি রেজুলেশনে নিজের জন্য ৩৭৭টি কার্ড এবং ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য ১ হাজার ২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে। অথচ স্থানীয় শল্লার বিল আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাসকারী অতি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য একটি কার্ডও রাখা হয়নি। এ ঘটনায় রেজুলেশনের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং রোববার (১৫ মার্চ) সকালে বঞ্চিত হতদরিদ্ররা ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অন্নদানগর ইউনিয়নের জন্য উপজেলা থেকে মোট ৪ হাজার ৭৯৭টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ হয়েছে। রেজুলেশনে ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনও নির্ধারণ করা হয়েছে—১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে, ৩ নম্বরে ২৭৫টি, ৪ ও ৫ নম্বরে ২৩০টি করে, ৬ নম্বরে ২৯০টি, ৭ ও ৮ নম্বরে ২৭০টি করে এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি। এ ছাড়া তিনজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের জন্য আলাদাভাবে ২৭৫টি করে কার্ড বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভিজিএফ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় এ কর্মসূচির মাধ্যমে ঈদ, রমজান কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুস্থ, অতি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুসারে ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত কমিটি (ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, সচিবসহ স্থানীয় প্রতিনিধি) প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করবে। কোনো ব্যক্তিগত, প্রশাসকের নিজস্ব কিংবা দলীয় ‘গণ্যমান্য’দের জন্য আলাদা কোটা রাখার কোনো বিধান নীতিমালায় নেই।

পীরগাছা উপজেলায় এবারের (২০২৫-২৬ অর্থবছর) ভিজিএফ কর্মসূচিতে মোট ৪৮ হাজার ৩৯৭টি (কোনো সূত্রে ৪৮ হাজার ৩৮৪টি) কার্ডের বিপরীতে ৪৮৩ দশমিক ৯৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। অন্নদানগরসহ অন্যান্য ইউনিয়নেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

রেজুলেশন ভাইরাল হওয়ার পর রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে শল্লার বিল আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকার বঞ্চিত পরিবারগুলো ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে কার্ডের দাবিতে বিক্ষোভ করে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেনের আশ্বাসে তারা পরে সরে যান। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিক হারুন অর রশিদ বাবুর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কার মাধ্যমে বিতরণ হলো সেটা বিষয় না। তবে সবাই যাতে সঠিকভাবে কার্ড পায় সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’

পিআইও আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পরে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে তালিকা তৈরি হয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই।’

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ভিজিএফ কর্মসূচির চাল অবশ্যই দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এভাবে কোনো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো খাতে ভাগ করার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর তিনি প্রশাসককে পুনরায় সভা আহ্বান করে নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগী নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন।’

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত এমন সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায় এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত হোক। ঘটনাটি বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর