ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকারী ইন্টারসেপ্টরের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে এসেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইসরায়েল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সেমাফোর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় বিপুল সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করার কারণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত আগেই কমে গিয়েছিল। বর্তমানে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েলের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে, যা প্রতিরোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে এবং দ্রুত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন কয়েক মাস ধরেই অবগত ছিল। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতে এমন সংকট নেই বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ঘাঁটি, সেনা সদস্য ও স্বার্থ রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল তাদের সংকট মোকাবিলায় বিকল্প সমাধান খুঁজছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা প্যাকেজে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নতুন করে সরবরাহ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অসীম যুদ্ধাস্ত্র মজুত রয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, গত জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫০টিরও বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল, যা তখনকার মোট মজুতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এছাড়া চলমান যুদ্ধের শুরুতে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরও ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।