Saturday 14 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ডোমারে নকলনবিশের বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:১০

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সুব্রতদেব রায় সিজান।

নীলফামারী: নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ মো. শাহীনুর ইসলামের বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরি, জমির নথি নষ্ট ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ডোমার পৌরসভার চাকধাপাড়া এলাকায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মৃত মনীন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে সুব্রতদেব রায় সিজান। এ সময় তার মা ভারতী রানিও উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে সিজান জানান, তাদের এক পূর্বপুরুষ অনেক বছর আগে এলাকার এক মালিকের কাছ থেকে কিছু জমি কিনেছিলেন। পরে পারিবারিক প্রয়োজনে সেই জমির একটি অংশ বিক্রি করা হয়। বর্তমানে তাদের পরিবারের মালিকানার বাইরে থাকা বিক্রিত কিছু জমিকে ঘিরে জাল দলিল তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দলিলের নথি রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো কাগজপত্রের মধ্যে অস্পষ্ট ও ঘষামাজা করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনো বৈধ দলিল ছাড়াই কৌশলে ওই জমিগুলো শাহীনুর ও তার পরিবারের নামে রেকর্ড করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সিজান আরও বলেন, সম্প্রতি তাদের প্রতিবেশী ডোমারের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. শাফিউল ইসলামের কেনা জমিও জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তারা জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করেন। তবে অভিযুক্তরা আদালতে হাজিরা না দিয়ে উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, ২০২৫ সালে তাকে জোরপূর্বক একটি দানপত্রে স্বাক্ষর করতেও বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে জানায়, সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত থাকার সুযোগ নিয়ে শাহীনুর গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিজানের মা ভারতী রানি বলেন, ‘আমরা মা-ছেলে ছাড়া আমাদের পরিবারে আর কেউ নেই। জমি নিয়ে সমস্যার কারণে আমরা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। মামলার পরও আতঙ্কে আছি। শাহীনুর ও তার লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. শাফিউল ইসলাম বলেন, ‘ডোমার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ শাহীনুর দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমাকে হয়রানি করে আসছেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শাহীনুর। তিনি বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার শাফিউল তার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও মানহানিকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।’

রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো নথিতে অস্পষ্টতা ও ঘষামাজার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো নথিতে তথ্য অস্পষ্ট থাকলে সেটি রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা নয়। কোথাও যদি অস্পষ্টতা থেকেও থাকে, সেটির দায় আমার ব্যক্তিগত নয়, সেটি অফিসের বিষয়।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার শাফিউল তার কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি আড়াল করতে অন্যদের দিয়ে এসব নাটক সাজিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর