Friday 13 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৫০০ টাকা ধার না পেয়ে ভাবিকে খুন, দেবর গ্রেফতার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৪

গ্রেফতার নুর শাহিন।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ায় গৃহবধূ জদিদা আক্তারের (২২) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের দেবর নুর শাহিনকে (১৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা এলাকায় নিজ ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় জদিদা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে জদিদা আক্তারের সঙ্গে দিনমজুর শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার বছরের এক ছেলে ও দুই বছরের এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় ২০ দিন আগে কাজের সন্ধানে শফিকুল ইসলাম বান্দরবানে যান। ঘটনার দিন ভোরে সেহরি খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জদিদাকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় একটি ও মাথার পেছনে দুটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

পরে মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকার এমএসএফ হাসপাতালের পাশের একটি বাড়ি থেকে নুর শাহিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার নুর শাহিন নিহত জদিদা আক্তারের দেবর। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে জানান, জদিদার কাছে ৫০০ টাকা ধার চেয়েছিলেন। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।

গ্রেফতার ব্যক্তির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাতেই অভিযান চালিয়ে পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা এলাকার চিত্তাখোলা খালের পাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের হাতলযুক্ত ২১ ইঞ্চি লম্বা একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।

উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজাদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি একটি ক্লু-লেস মামলা ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযানে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, গ্রেফতার আসামিকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর