ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আত্মপক্ষে মৌখিক সাক্ষ্য দিতে পারেন নি জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এ অবস্থায় মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ।
এদিন ট্রাইব্যুনালে ইনুর সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি কোনো ধরনের ব্যাখ্যা দেননি।
পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিতর্কের জন্য ২ এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী আগে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে থাকলেও এ মামলায় প্রথমে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করবেন।
এ বিষয়ে ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসানুল হক ইনু ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে চাননি। এরপরও তাকে আদালতে আনা হয়েছে। তবে আদালতে উপস্থিত করা হলেও তার আত্মপক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, তারা ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটিও গ্রহণ করা হয়নি। এতে আসামির আইনি অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতা আন্দোলনে নামেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসানুল হক ইনুর নির্দেশে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। এতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন এবং অনেক নিরীহ মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় উসকানি ও প্ররোচনাসহ ইনুর বিরুদ্ধে মোট ৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে।