ঢাকা: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার (রিপ্যাট্রিয়েশন) প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে একটি নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন বেসরকারি ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে অ-নিবাসী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ৮ মার্চ ইআইডি সার্কুলার নং–০১ জারি করে এই মাস্টার সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৮ ও ২০২০ সালে জারি করা আগের নির্দেশনাগুলো একত্রে হালনাগাদ করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং লেনদেনের সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন পদ্ধতি সহজ করা, দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা নির্ধারণ এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরে মূল্যায়ন ও অর্থ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ ব্যাংক–এর যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের ক্যাপিটাল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি গঠন করা হয়। বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি–এর নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটি গত বছরের ১৯ নভেম্বর সংস্কার প্যাকেজটি চূড়ান্ত করে।
এ বিষয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপে আত্মবিশ্বাসী হলে তবেই একটি ইতিবাচক বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি হয়। অনুমোদনের জটিলতা কমানো, বিক্রয়লব্ধ অর্থ সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং বিনিয়োগ থেকে প্রস্থান প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়ন ছাড়াই ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে এডি ব্যাংকগুলো এখন ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারবে।
এছাড়া অডিট করা আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই এডি ব্যাংক সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিট অ্যাসেট ভ্যালু, বাজারমূল্য বা ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো পদ্ধতি বহাল রাখা হলেও নির্দেশনাগুলো আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
নতুন সার্কুলারে প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ থাকলে শেয়ার হস্তান্তর ৪৫ দিনের মধ্যে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবর্তন পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি এডি ব্যাংককে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে এসব আবেদন পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এডি ব্যাংকগুলো যেসব লেনদেন সম্পন্ন করবে, সেগুলোর বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে।