ঢাকা: জ্বালানি তেলের অবৈধ পাচার প্রতিরোধে সারাদেশের সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল জোরদার ও পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। কোনোভাবেই দেশ থেকে জ্বালানি তেল যাতে ভারতে পাচার করা না যায় সেজন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি সদর দফতর।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের পাচার ঠেকাতে সারাদেশের সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই মুলত বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বিজিবি সুত্র জানিয়েছে, জ্বালানি তেল পাচারের রুটের মধ্যে রয়েছে, জয়পুর হাটের পাঁচ বিবি দিনাজপুরের হিলি, বিরামপুর, হাকিমপুর, বিরল, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া, নীলফামারীর চিলাহাটি, লালমনিরহাট জেলার পাঁচ থানা, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি, ভুরুঙ্গামারী, রৌমারী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা, ব্রাম্মণবাড়িয়া, ফেনী, নেত্রকোনা ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এসব এলাকায় বিজিবি টহল বাড়ানো হয়েছে। সার্বক্ষনিকভাবে বিজিবি নজরদারি করছে।
বিজিবির দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, বিজিবি সদর দফতর থেকে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে হিলিসহ দিনাজপুরের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণির পাচারকারী সীমান্ত দিয়ে গোপনে জ্বালানি তেল পাচারের চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কার ভিত্তিতেই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল বলেন, সীমান্ত পথে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সন্দেহজনক যেকোনো চলাচলের ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি ইমাম বলেন, সীমান্তগুলোতে অতীতে বিভিন্ন সময়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে জ্বালানি তেল পাচারের চেষ্টা করেছে। এসব তৎপরতা ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গত দুই দিন থেকে থেকে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বেনাপোল স্থলবন্দরসহ শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন যানবাহন ও মালামাল তল্লাশি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তজুড়ে টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ করে অতীতে যেসব সীমান্ত রুট দিয়ে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা হয়েছে, সেসব এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর গেটে দেশীয় ও ভারতীয় ট্রাক মালামাল পরিবহনের সময় ভারতে প্রবেশের আগে অধিক সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘যশোর সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সন্দেহজনক যেকোনো যানবাহন বা চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে।
দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
এদিকে জ্বালানি তেল সংকট মনে করে গ্রাহকরা পাম্প স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তেল কিনতে দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে একই চিত্র দেখা গেছে। তবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।