ঢাকা: তিন দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছে। ইরানে হামলার পর থেকেই পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। যদিও মাঝখানে একদিন সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, কিন্তু মঙ্গলবার (৩ মার্চ) থেকে আবারও বাজারে পতন দেখা গেছে।
তবে বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতে সূচক ও লেনদেন নিম্নমুখী থাকলেও মধ্যাহ্নে সূচক ও লেনদেন ইতিবাচক দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। দিনশেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২.০৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩২৩.০৩ পয়েন্টে অবস্থান করলেও, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং ধাপে ধাপে ঈদের সময়ের ঘনিয়ে আসার কারণে কিছুটা বিক্রি চাপ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলতে শেয়ার বিক্রি করছেন, যার প্রভাব সূচকের সামান্য পতনে দেখা দিয়েছে। তবে অধিকাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধিই বাজারের সুস্থ প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার ডিএসই-তে মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেন। এর মধ্যে ২২৭টির শেয়ার দর বেড়েছে, ১১২টির কমেছে এবং ৫৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৮০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৩০২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা কম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন ১৭০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে, ৮৯টির কমেছে এবং ২১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৭.৬৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৭২.৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার তুলনায় কম।
এদিন ডিএসই’র অন্যান্য সূচকের অবস্থান ছিল—ডিএসইএস ০.৮৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬২.৫০ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪.৭৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৫.৩৭ পয়েন্টে।
সূচকের সামান্য পতনের মধ্যেও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে এবং বাজারের পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা প্রদর্শন করছে।