ঢাকা: গত ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি কমেছে। আলোচ্য সময়ে অর্থাৎ তিন মাসে প্রভিশন ঘাটতি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। যা সাম্প্রতিককালের মধ্যে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক হ্রাস। তবে কমলেও প্রভিশন ঘাটতির মোট পরিমাণ এখনো প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। এর আগে গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতির মোট পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর পযন্ত ব্যাংকগুলোতে মোট সংরক্ষিতব্য প্রভিশনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯১ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সংরক্ষিত হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। প্রভিশন কভারেজ অনুপাত ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬.৬০ শতাংশে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে যা ছিল ২৮.১৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক প্রান্তিকে ২৮.৪২ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে কভারেজ অনুপাত।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের উচ্চ খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আদায় কাঠামো ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতির মূল কারণ। তবে আলোচ্য সময়ে ঘাটতি হ্রাস ব্যাংক খাতের ঝুঁকি সহনশীলতা বাড়ার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। শ্রেণিকৃত ঋণ হ্রাস, কিছু ক্ষেত্রে ঋণ পুনঃতফসিল, আদায় কার্যক্রম জোরদার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকির কারণে প্রভিশন ঘাটতি কমেছে বলে মনে করছেন তারা।
ব্যাংকের ক্যাটাগরিভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। গত ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার ২৮.২৫ শতাংশ। আর খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতির মোট পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার ৪৪.৪৪ শতাংশ। আর খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতির মোট পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৭০ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার ৩৯.৭৪ শতাংশ। আর খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতির মোট পরিমাণ হচ্ছে ২০১ কোটি টাকা।
আর দেশে ব্যবসা পরিচালনারত বিদেশি বাণিজ্যিকগুলোতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার ৪.৫১ শতাংশ। বিদেশি বাণিজ্যিকগুলোতে সার্বিকভাবে কোনো প্রভিশন ঘাটতি নেই। বরং উদ্বৃত্ত প্রভিশন রয়েছে। এর পরিমাণ ৩৩৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা।