Sunday 01 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খামেনির পর কে হচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১ মার্চ ২০২৬ ১১:১৬

কোলাজ ছবি: সারাবাংলা

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খামেনির মৃত্যুর পরপরই ইরানের সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের জটিল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হলে একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব কাউন্সিল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রোববার (১ মার্চ) দেশটিতে এ কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান ঘোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য, যাকে এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল মনোনীত করে।

বিজ্ঞাপন

এই তিন সদস্য সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার সব দায়িত্ব পালন করবেন এবং নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।

নতুন নেতা নির্বাচন করবে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’

ইরানের আইন অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস যত দ্রুত সম্ভব নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। এই পরিষদের সদস্যরা সবাই শিয়া আলেম এবং প্রতি আট বছর অন্তর সাধারণ ভোটে নির্বাচিত হন। তবে প্রার্থীদের অনুমোদন দেয় গার্ডিয়ান কাউন্সিল, যা বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী বাতিল করার জন্য পরিচিত।

২০২৪ সালের মার্চে এই পরিষদের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সম্ভাব্য উত্তরসূরি

নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া সাধারণত জনসম্মুখের বাইরে গোপনে অনুষ্ঠিত হয়, ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া কঠিন। একসময় ধারণা করা হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি খামেনির উত্তরসূরি হতে পারেন। কিন্তু ২০২৪ সালের মে মাসে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় যারা রয়েছেন-

খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি

মোজতবা খামেনি

খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি (৫৬) একজন শিয়া আলেম। ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং এর স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

তবে বাবা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভালোভাবে দেখা হয় না, কেননা ইরানে রাজতন্ত্র উৎখাত করে ইসলামী বিপ্লব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়া মোজতবা উচ্চপদস্থ আলেম নন এবং সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক পদেও নেই। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আলিরেজা আরাফি

আলিরেজা আরাফি

কম পরিচিত হলেও আলিরেজা আরাফি ইরানের প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় নেতা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি। তিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বর্তমানে তিনি অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের উপ-চেয়ারম্যান এবং শক্তিশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ইরানের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রধানও। তবে রাজনৈতিকভাবে তিনি খুব শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত নন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও সীমিত।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি

 

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি

মিরবাঘেরি একজন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা এবং অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য। তিনি ইরানের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে রক্ষণশীল অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বর্তমানে তিনি কোম শহরের ইসলামিক সায়েন্সেস অ্যাকাডেমির প্রধান।

হাসান খোমেনিহাসান খোমেনি

হাসান খোমেনিহাসান খোমেনি

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেনির নাতি হওয়ায় হাসান খোমেনি ধর্মীয় ও বিপ্লবী বৈধতা অর্জন করেছেন।

তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কখনও সরকারি পদে ছিলেন না। নিরাপত্তা কাঠামো বা ক্ষমতাসীন অভিজাত গোষ্ঠীর মধ্যে তার প্রভাব তুলনামূলক কম। অন্যান্য অনেক আলেমের তুলনায় তিনি কম কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত এবং ২০১৬ সালে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পাননি।

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি

বুশেহরি একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা, যিনি নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও দেশে তার জনপরিচিতি তুলনামূলক কম এবং আইআরজিসির সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক থাকার প্রমাণও খুব বেশি নেই।

সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা কতটা?

ইরানের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের নেতা রুহোল্লাহ খোমেনি মৃত্যুবরণ করলে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন।

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু হলেন সর্বোচ্চ নেতা। রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক কৌশল, নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্তে তারই চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এবং শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সর্বাধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এই বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত বিভিন্ন মিত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর