ঢাবি: অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই জনস্রোত নামে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। অনেকেই গায়ে সাদা-কালো পোশাক, হাতে ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানান শহিদ মিনারে। শুধু বাঙালীরাই নয়,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে দেশি, বিদেশি, আদিবাসীসহ সকল জাতির মানুষের ভিড় দেখা গেছে শহিদ মিনারে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে শহিদ মিনারে গিয়ে দেখা গেছে মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে ভাসছে, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…।’
এমনই একজন নাজমুল হোসেন (৩৪)। তিনি পেশায় কনসাল্টেন্ট। ৩ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি। এটা ভাষা শহিদদের অবদান। তাদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরই আসি। এবারই প্রথম ছেলেকে নিয়ে এসেছেছেন। তারা ছোট থেকেই আমাদের এসন অনুষ্ঠান দেখে শেখা প্রয়োজন।’

শুধু বাঙালীরাই নয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বিদেশীরাও এসেছেন শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে। যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ঘুরতে আসা জর্জ সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ভাষা দিবস খুবই সুন্দরভাবে পালন করা হয়। আমি এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য সম্পর্কে জেনেছি। ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাই।’
তপু চিরাং একজন আদিবাসী। তার বাড়ি টাঙাইল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে তারা ৪ জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছেন। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিটি জাতির নিজ নিজ ভাষা রয়েছে। এসব ভাষা গৌরব ও সম্মান বয়ে আনে। নিজের ভাষাকে শ্রদ্ধা জানাতে আমরা কয়েকজন বন্ধু এখানে ফুল দিতে এসেছি।’
এর আগে, শুক্রবার মধ্যরাতে ১২টা এক মিনিটে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রী পরিষদসহ অনেকেই। শহিদ মিনারে প্রথম বারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াত আমির শফিকুর রহমানও।
এছাড়াও ভাষা শহিদদের সম্মান জানাতে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিভিন্ন শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার, ব্যাবসায়ী, সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠনসহ সারাদেশের বিভিন্ন ধরণের সংগঠন ও সর্বসাধারণ।