Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৩ সিটিতে নির্বাচন জুনে, তফসিল ঈদের পর

নাজনীন লাকী স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০২

নির্বাচন কমিশন। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: মাত্র কয়েকদিন আগেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সেই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এরই মধ্যে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনে ঈদুল আযহার আগেই ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। তবে এসব নির্বাচনের আগে বিদ্যমান সিটি করপোরেশন আইন ও নির্বাচনি আচরণবিধিমালায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ইসি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই কমিশন সভায় এসংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হতে পারে।

কেন এই আইন সংশোধন?

নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরদিনই বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে দ্রুতই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন কবে হতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব, আমরা এগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। যত দ্রুত সম্ভব, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে ‎নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অন্তবর্তী সরকার সংসদ ও স্থানীয় সরকারের আইনে সংশোধন এনে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। নির্বাচিত সরকার আসায় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আইনে কোনো সংশোধন আনা হচ্ছে কি না তাও দেখতে হবে।

অপরদিকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন আইন সংশোধন করে গতবছর ২৫ অগাস্ট এই অধ্যাদেশ জারির ফলে আগামীতে আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আইনি সুযোগ নেই।

এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বিদ্যমান আইনের কিছু জটিলতা দূর করা জরুরি। কমিশন মূলত দুটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে-

  • অঙ্গীকারনামা বিধান: সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ‘সহিংসতা না করার অঙ্গীকারনামা’ ইতিবাচক ফল দিয়েছে। সিটি নির্বাচনেও এই বিধান যুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে।
  • অভিন্ন আচরণবিধি: বর্তমানে সিটি, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আলাদা আলাদা আচরণবিধি থাকায় আইনি ব্যবস্থা নিতে জটিলতা হয়। ইসি এখন সব স্থানীয় সরকারের জন্য একটি ‘ইউনিফাইড’ বা অভিন্ন আচরণবিধি প্রণয়নের কথা ভাবছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠি

স্থানীয় সরকার বিভাগ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফেব্রুয়ারির শুরুতে সিটি নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে ইসির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বলে সারাবাংলাকে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আলাদা আলাদা চিঠিতে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে সরকার। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।’

তিন সিটির নির্বাচনি সমীকরণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক): সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠা ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী দেখিয়ে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করছিলেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতে আত্মগোপনে চলে যান চসিক মেয়র। অন্তর্বর্তী সরকার ১৯ আগস্ট মেয়র রেজাউল ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে। এরপর ১ অক্টোবর শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে ওই মামলার রায় দেন আদালত। ৫ নভেম্বর তিনি মেয়রের দায়িত্ব নেন। আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নবিদ্ধ সেই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটিতে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম। আর দক্ষিণ সিটিতে জয়ী হন আওয়ামী লীগের ফজলে নূর তাপস। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতে আত্মগোপনে চলে যান দুই সিটির মেয়র (যদিও পরবর্তী সময়ে আতিকুল ইসলাম গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন)। আর অন্তর্বর্তী সরকার ১৯ আগস্ট সব সিটির মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে। ওই সময় থেকেই প্রশাসক দিয়ে চলছে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সিটি করপোরেশন।

এদিকে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গতবছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এই দুই সিটির মেয়াদ এরই মধ্যে পার হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এতদিন নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই দুই সিটির ভোট আয়োজনের তাগিদ দিয়ে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রমজানে প্রস্তুতি, ঈদের পর ভোট

আইনি বাধ্যবাধকতা ও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিন সিটির নির্বাচন এখন ইসির অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। জানা গেছে, পুরো রমজান মাস জুড়ে আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনার কাজ চলবে। এর পর ঈদুল ফিতরের ঠিক পরেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। আর জুনে কোরবানির ঈদের আগেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যান্য সিটি নির্বাচনের কী হবে?

ইসির তালিকা অনুযায়ী, অন্যান্য সিটির মেয়াদ এখনো অনেকটা বাকি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে। আর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে। এর বাইরে রংপুর, গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশালী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৮ সালে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

নির্বাচন বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন সহিংসতামুক্ত খুব সুন্দর একটি নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছে। তাই বর্তমান ইসির প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও এখন অনেক বেশি।’ তিনি মনে করছেন, এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের জন্য এই তিন সিটি নির্বাচন হবে বড় ‘এসিড টেস্ট’। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সংসদ নির্বাচনের মতো শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই হবে সংস্থাটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

৩ সিটিতে নির্বাচন জুনে, তফসিল ঈদের পর
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০২

আইন সবার জন্য সমান: ভূমিমন্ত্রী মিনু
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২১

আরো

নাজনীন লাকী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর