Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এনসিটি ইজারা ইস্যু: শ্রমিকদলের ডাকা ধর্মঘটে ফের অচল চট্টগ্রাম বন্দর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:১২ | আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৭

চট্টগ্রাম ব্যুরো: নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা ধর্মঘটে দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বন্দরে কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ আছে। বিভিন্ন সেবা ডেস্কে কর্মবিরতির নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

এদিকে বন্দর এলাকায় পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মিছিল-সমাবেশসহ যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শ্রমিক দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট বানচালে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধর্মঘটের সমর্থনে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছিল। তবে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সেই কর্মসূচি স্থগিত করেছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলনে সর্বাত্মক সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করেছে। জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সরকারকে শ্রমিক-কর্মচারীসহ জনতার দাবি মেনে ‘দেশবিরোধী চুক্তির’ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

স্কপ নেতা ইফতেখার কামাল খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘কালো পতাকা মিছিলের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু গতরাতে সিএমপি মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, আজ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এজন্য কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন না করতে অনুরোধ করা হয়। আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছি।’

এনসিটি আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গতকাল শনিবারও (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোববার দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধের ডাক দেয়।

জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে ঘোষিত কর্মসূচি শুরু হয়। তবে বন্দর ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল আছে। অবশ্য কর্মচারিদের অধিকাংশই অফিসে হাজিরা দিলেও দায়িত্ব পালন থেকে বিরত আছেন। এছাড়া বন্দরের কর্মচারি ও বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকেরা কেউ কাজে যোগ না দেননি। এর ফলে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিতে অপারেশাল কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ আছে। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন সারাবাংলাকে বলেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট ঠেকাতে হয়রানি শুরু করেছে৷ পুলিশও দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়েছে। হয়রানি বন্ধ না করলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’

উল্লেখ্য, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কর্মবিরতি পালন করায় চার কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়। বন্দর অচলের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি কমিটি গঠন করেছে বন্দর প্রশাসন।

এছাড়া শনিবার মধ্যরাতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সিএমপি কমিশনার বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, পথসভাসহ যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর