ঢাকা: আদালত অবমাননার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দুজনকে দেওয়া সাজার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষণও দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে বসে বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করতেই শেখ হাসিনা নানান বক্তব্য দিচ্ছেন বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন আদালত।
শনিবার (৯ আগস্ট) রায়ের অনুলিপিটি পুলিশপ্রধানের কাছে পাঠানো হয়।
এর আগে, ২ জুলাই আদালত অবমাননার মামলায় শেখ হাসিনাকে ছয় মাস ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর সেখান থেকেই বিচারকাজকে বাধাগ্রস্ত করতে মুঠোফোনে একে একে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন তিনি। আর এসবের অডিও রেকর্ড ভাইরালও হয়। এর মধ্যে একটি কলে কথা বলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাকিলের সঙ্গে। তাদের কথপোকথনের একটি অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ‘২২৭টি মামলা হয়েছে, ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি।’
ভাইরাল হওয়া ওই অডিও রেকর্ডটি শেখ হাসিনারই বলে প্রমাণিত হয়েছে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে।এরপর দুজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার মামলা করে প্রসিকিউশন। পরবর্তীতে আসামিদের অনুপস্থিতিতে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী-সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখাতেই হুমকি দেন শেখ হাসিনা। রায়ের অনুলিপিটি পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) দেওয়া হয়েছে। তবে ‘হেইট স্পিচ’ ছড়াতে থাকলে শেখ হাসিনাকে ফের আদালত অবমাননার মামলার মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।