ঢাকা: বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—এই মাটিতে আর কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এটাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সবচেয়ে বড় শক্তি। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন স্বৈরাচার ও একটি ‘পচে যাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় সংগ্রাম করেছে বিএনপি। এ সংগ্রামে লাখ লাখ পরিবার ধ্বংস হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ গুম ও অসংখ্য মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাজার হাজার মানুষ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে নেমে এসেছিল। আন্দোলন দমন করতে শত শত তরুণকে হত্যা করা হয়। ছাত্র-জনতার অদম্য গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘শুরু হয় নতুন বাংলাদেশের পথচলা। গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।’ জাতিসংঘের তদন্ত এবং দেশের ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা সরকারের অপরাধের প্রমাণ উঠে এসেছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, গ্যাস ও তেলের সংকট, হামের প্রাদুর্ভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সরকার থেমে যায়নি। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার বিশ্বাস ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে, আস্থা ২০২৪-এর তারুণ্যে এবং আদর্শ জিয়াউর রহমান। তিনি লিবারেল ডেমোক্রেসি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে আস্থা এবং বিএনপির প্রতি বিশ্বাসের কথাও জানান।
তিনি বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগ, কোটি মানুষের স্বপ্ন, মেধা ও পরিশ্রমকে শক্তিতে পরিণত করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানুষের মর্যাদা থাকবে।