ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আজ দুটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে, যেই লাউ সেই কদু। এতদিন বিএনপির সমস্ত বুলি ছিল-মানুষকে ধোঁকা দেওয়া ও প্রতারণা করা। তারা সেই একই ফ্যাসিজমের পথে হাঁটছে। আমরা দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি-আমরা ফ্যাসিজমকে আগেও মেনে নেইনি, এখনও মেনে নেব না। নতুন কোনো ফ্যাসিজমকেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা রুখে দিব ইনশাআল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের দু’টি আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘অনেকেই বলেছেন’ ৯৪ সালে ছিল মাগুরায়, এবার হলো বগুড়ায়। শুধু নাম পরিবর্তন হয়েছে। স্টাইল একই রয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘শেরপুরে আমাদের একজন উপজেলা সেক্রেটারিকে হত্যা করা হয়েছিল। এবার আরেক উপজেলা সেক্রেটারিকে হত্যা করা হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং স্পিকারের মাধ্যমে খুনিদের বিচার দাবি করছি।’
জাতীয় সংসদে ওয়াক আউট প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুই দফার সংসদ অধিবেশনে এমন কিছু বিল সামনে এসেছিল-কিছু বিলে আপত্তি ছিল না, জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করে সেগুলোতে সম্মত হয়েছি, সর্বসম্মতভাবে সেগুলো পাস হয়েছে। আবার কিছু বিলের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরন, সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা ছিল। আমরা সেই বিলগুলোতে আপত্তি উত্থাপন করেছিলাম।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আপত্তিতে প্রথমে আমাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল দুই মিনিট। আমরা প্রতিবাদ করলে প্রথম বক্তাকে তিন দফায় বাড়িয়ে ছয় মিনিট দেন। যেটাকে অবিচার না বললেও আমাদের ওপর সুবিচার হয়নি। অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সময়ের কোনো লিমিট ছিল না। দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক অনেক কথা বলেছেন। আমরা স্পিকারের কাছে সুবিচার চাই। উভয়কেই সময় বাড়ানোর দাবি জানাই। কিন্তু আমাদের সময় ১০ মিনিট বেঁধে দেওয়া হয়, আর মন্ত্রীদের জন্য সময়ের কোনো লিমিট ছিল না। এভাবে ভারসাম্যহীনভাবে এদিন অতিক্রম করতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জনস্বার্থে আমাদের সুস্পষ্ট আপত্তি জানিয়েছি। আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দেখতে চাই। আমরা বলেছি, বিচার বিভাগের নিয়োগ যদি নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্বেই থাকে তাহলে বিচার বিভাগের দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এবং জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা এটা চাই না। অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তাতে কার্যত নির্বাহী বিভাগের কোনো প্রভাব ছিল না। তারা আগেরটায় ফিরে গিয়ে প্রমাণ করলেন হাসিনা খারাপ, কিন্তু হাসিনার নীতি ভালো। এটা কখনো হতে পারে না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘যে পদ্ধতি ফ্যাসিজম জন্ম দিয়েছিল সেই পদ্ধতি আবার বিচার ব্যবস্থায় ফিরে আসুক- এটা আমরা কামনা করি না, এটা আমরা চাই না। আমরা তীব্র প্রতিবাদ করেছি। এর পর স্থানীয় সরকারের চারটি বিল ছিল, এসব জায়গায় ইতোমধ্যে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে। অথচ বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব ও নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মারা গেলে অথবা কোর্টে সুস্পষ্ট দণ্ডিত হলে কেবল প্রশাসক বসানো হবে, অন্য কারণে নয়। এখন প্রশাসক বসানোর কারণ তারা জানাতে পারেননি। আমাদের আশঙ্কা হলো-সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে একদলীয় করণ করে কার্যত আরেকটি ফ্যাসিজম, আরেকটি বাকশাল হবে। আমরা সেই বাকশাল বা ফ্যাসিজম চাই না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের পক্ষে। এজন্য শুধুমাত্র দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটির বলে যেসব জনবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে, তারই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। কিন্তু আমরা সংসদ বর্জন করিনি। আমরা সংসদে গিয়ে জনগণের হয়ে কথা বলব। জনস্বার্থবিরোধী কিছু হলে আমাদের কণ্ঠ আবারও জনগণের অধিকারের পক্ষে গর্জে উঠবে ইনশাআল্লাহ। আমরা জনগণের পক্ষে লড়াই করে যাব, কোনো অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।’
এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বিরোধীদলের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।