ঢাকা: গত ৫৪ বছরে সংবিধানের যে সব ধারা ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেগুলোর আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা কখনো সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা বলিনি। আমরা সংবিধানের ওই জায়গাগুলোর সংস্কার চাই, যা গত ৫৪ বছর ধরে বারবার ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা এক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সরকারি দলের এক সদস্যের ‘কিলিং কালচার’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেই দলটির ওপর ইতিহাসের সবচাইতে জঘন্য অত্যাচার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপবাদ দেওয়া এই সংসদের জন্য লজ্জার। আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ঠান্ডা মাথায় জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার বানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, হাজারো কর্মীকে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে, আয়নাঘরে পাঠানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করতে দলটিকে নিষিদ্ধও করা হয়েছিল।
ফ্যাসিবাদের জন্ম ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। সেদিন লগি-বৈঠার তাণ্ডবে পল্টন মোড়ে আমাদের ছয়জন কর্মীকে সাপের মতো পিটিয়ে হত্যা করে লাশের ওপর নর্তন-কুর্দন করা হয়েছিল। সেই দৃশ্য দেখে গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়েছিল। এই মজলুমের মিলনমেলায় আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো আইন বা সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।
জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো সংঘাত নেই উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা জুলাই সনদ মানি, গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা মানি, গণভোট মানি এবং গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কার পরিষদ হওয়ার কথা তাও মানি। এখানে অমান্যের কোনো জায়গা নেই। আমরা তো সবাই গণভোটের হারের পক্ষে ক্যাম্পেইন করে এই সংসদে এসেছি। তাহলে এখন কেন মুখোমুখি দাঁড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে?
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশগুলো নিয়ে গঠিত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আমাদের সামনে আসুক। আমরা রিপোর্ট দেখে বিলগুলোতে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করতে চাই। আমরা সরকারি ও বিরোধী দল মিলে আইনের একটি সুষ্ঠু কাঠামো গড়ে তুলতে চাই।
সংসদে দাঁড়িয়ে একে অপরের চরিত্রহনন বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই মহান সংসদ কারও চরিত্র হননের জন্য নয়, বরং জাতিকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য। আসুন, কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করে এমন এক বাংলাদেশ গড়ি যেখানে প্রান্তিক মানুষ থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন—কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। ক্ষমতার গরমে অপরাধ করে কেউ যেন পার না পায়, সেই সাম্যের বাংলাদেশই আমাদের কাম্য।
আলোচনায় তিনি একটি মুলতবি প্রস্তাব পেন্ডিং থাকা অবস্থায় পুনরায় একই ধরনের প্রস্তাব আনার কার্যপ্রণালী বিধি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি মুলতবি প্রস্তাব পেন্ডিং থাকা অবস্থায় আর একটি মুলতবি প্রস্তাব আনা যায় কি না আমি একজন নবীন সদস্য হিসেবে জানতে চাই।