Sunday 05 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গণভোটের রায় না মানলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪৬ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪৪

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।

ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, গণভোটের রায়কে যদি বর্তমান সরকার মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই এই সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামবে তার দল।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। গণভোটের গণরায় উপেক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশ বাতিল এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বিগত সময়ে জিয়াউর রহমানের আমলে কিংস পার্টি গঠনের লক্ষ্যে গণভোট করা হলেও এবারের গণভোটের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল এবং এর জনমতকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই এই বিএনপি সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আমরা সকল অংশীজনদের সঙ্গে বসে কাজ করতে আগ্রহী ছিলাম এবং এত দ্রুত রাজপথে নামার পরিকল্পনা বিরোধী জোটের ছিল না। তবে গণভোট নিয়ে যে ধরনের নাটকীয়তা শুরু হয়েছে, তাতে রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই এবং এই পরিস্থিতি কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

তিনি বিএনপি সরকারের আত্মতুষ্টির সমালোচনা করে বলেন, আপনারা প্রায়ই বলেন যে আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না, কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করা যায়নি, তখনই ৭১ সংঘটিত হয়েছিল; একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা করা না গেলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

প্রশাসক নিয়োগের ইস্যুতে সরকারকে অভিযুক্ত করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, বিএনপি বারবার সংবিধানের কথা বললেও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। অথচ পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে যেকোনো সময় অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সুস্পষ্টভাবে সংবিধানের পরিপন্থী।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বিগত সময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সকল লক্ষণ ফুটে উঠছে। যদি এই সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই আমরা তাদের ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করব।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা যেমন আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও আপনাদের অবৈধ বলতে এক মুহূর্ত সময় নেব না এবং অবিলম্বে রাজপথে নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করব।

সারাবাংলা/এফএন/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর