ঢাকা: ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ভারতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের দূত (অ্যাম্বাসেডর) হিসেবে কাজ করবেন। দুই দেশের মানুষে-মানুষে চমৎকার সম্পর্ক তৈরি করা তাদের আমাদের উভয়েরই দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে আইসিসিআর স্কলারশিপ প্রাপ্তদের ভারত গমনের আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে বৃত্তিপ্রাপ্তদের পরিবেশনায় একটি চমৎকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন সবাই।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমাদের সবসময় ভাবতে হবে কীভাবে আমরা একে অপরের সঙ্গে মিশে যেতে পারি। আমাদের সংস্কৃতি এবং ভারতের সংস্কৃতির মধ্যে আদান-প্রদান হতে পারে, তা পড়াশোনা হোক বা অন্য কিছু।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজেদের জড়তা কাটিয়ে বাইরে বের হতে হবে এবং বন্ধু তৈরি করতে হবে।’ যখন আপনারা বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে শ্রদ্ধা পাবেন, তখন আর কিছুর প্রয়োজন হবে না বলেও উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
হাইকমিশনার বলেন, ‘ভবিষ্যতে আপনারা কী করবেন তা আমি দেখতে চাই এবং আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখব। কোনো প্রয়োজন হলে আমাদের হাইকমিশন যোগাযোগ রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কতটা কঠিন।’ পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘৭ হাজার ৭০০ আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ছয় শতাংশ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নবীনরা অসাধারণ। এ সময় তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি শুভকামনা জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।
আকাশছোঁয়া স্বপ্নের গুরুত্ব নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমার বেঞ্চমার্ক বা লক্ষ্য সবসময় অনেক উপরে ছিল, আর সেই কারণেই আমি আজ একজন পাইলট হতে পেরেছি।’
তিনি নবীনদের পরামর্শ দেন যে, তাদের লক্ষ্য বা ড্রিম এত উঁচুতে হওয়া উচিত যা সাধারণের কাছে অসম্ভব মনে হতে পারে। স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
তার বক্তৃতায় ভারতের বৈচিত্র্যের কথা উঠে আসে। কলকাতা থেকে চেন্নাই কিংবা মুম্বাই থেকে পাঞ্জাব—খাদ্যতালিকায় ভিন্নতা ও উৎসবের বৈচিত্র্যই যে ভারতের মূল শক্তি, তা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বোয়িং কোম্পানির এশিয়া ডিরেক্টর প্র্যাটের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের একটি ছোট গল্প শোনান। দিল্লিতে বোয়িং-এর ১০০ জন শীর্ষ নির্বাহীদের সামনে ভাষণ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি ভারতকে তাদের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছিলেন।
এবার মোট ৫০০ আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যাবেন। এবার মোট ৭ হাজার ৭০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৫০০ জনকে নির্বাচন করা হয়।
উল্লেখ্য, আইসিসিআর (ICCR) স্কলারশিপ হলো ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভারতের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিনা খরচে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পড়ার একটি জনপ্রিয় শিক্ষাবৃত্তি। এর আওতায় সম্পূর্ণ টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার জন্য মাসিক ভাতা, বার্ষিক বুক গ্র্যান্ট এবং বিমান ভাড়ার সুবিধা দেওয়া হয়।