Wednesday 05 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি: ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা দরে চাল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৪ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৪৩ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২৬ ১৮:১৪

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

ঢাকা: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজারে খাদ্যশস্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ শুরু করেছে সরকার। গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে দেশের ৪৯৫টি উপজেলার ৫৫ লাখ কার্ডধারী উপকারভোগী প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন কেজিপ্রতি ১৫ টাকা দরে। এ কর্মসূচি চলবে ছয় মাস—এ বছরের আগস্ট থেকে আগামী বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অপুষ্টি মোকাবিলা এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে পুষ্টিচাল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২৪৮টি উপজেলায় প্রায় ২৫ লাখ ২৯ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে পুষ্টিচাল বিতরণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ২৪৭টি উপজেলায় প্রায় ২৯ লাখ ৭১ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে সাধারণ চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি সারাদেশে ১ হাজার ১০৮টি কেন্দ্রের (দোকান ও ট্রাক) মাধ্যমে খোলাবাজারে চাল ও আটা বিক্রয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি খাদ্য মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ মেট্রিক টন এবং ধান ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, সরকার দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত করা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা, অপুষ্টি হ্রাস এবং নারী ও শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো বিদ্যুৎবিভাগ ও বিতরণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। কোনো গ্রাহকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

এদিকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় যমুনা সেতু সাইটে ১২০ একর জমি ইজারা দিয়ে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে জকিগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে সিলেটের জাফলং, তামাবিল ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩ আগস্ট পর্যন্ত কাঁচামরিচ আমদানির জন্য ৫০৫টি আমদানি অনুমতিপত্র ইস্যু হয়েছে। এসব অনুমতিপত্রের বিপরীতে আমদানির অনুমোদিত পরিমাণ ২ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন। একই সময়ে প্রকৃত আমদানি হয়েছে ২৬ দশমিক ৫ মেট্রিক টন। টমেটো আমদানির জন্য ৮৫টি অনুমতিপত্র ইস্যু হয়েছে এবং অনুমোদিত পরিমাণ ৬০ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন; প্রকৃত আমদানি হয়েছে ২৩৫ দশমিক ২০৪ মেট্রিক টন।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চলমান কার্যক্রম, অগ্রগতি ও অর্জনের তথ্যও প্রেস ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ, নারী ও শিশু, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যুব ও ক্রীড়া এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন খাতের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।