ঢাকা: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দ্রুত ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন
একই সঙ্গে বন্যা, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতিও কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ডা. জাহেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক পরিস্থিতি সমন্বিতভাবে মোকাবিলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায়ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম, স্যালাইন ও ডায়রিয়ার ওষুধ মজুত রেখেছে। বন্যাকবলিত ১১ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে, যাতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত থাকে।
খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২৩ লাখ ২৬ হাজার ১৬০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত এলাকায় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বছর ট্যালেন্টপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৬ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ছাত্রী ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। এটি শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় ছেলে ও মেয়েদের দলের সংখ্যা সমান হওয়াকেও ইতিবাচক পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের চলমান টোল ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের কাজ এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতির কথাও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৬ জুলাই রায়েরবাজারে জুলাই শহিদদের কবর জিয়ারত, দোয়া ও ফাতেহা পাঠ, রংপুরে আবু সাঈদকে স্মরণ, আলোচনা সভা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষ কর্মসূচি এবং শহিদ ও যোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এসব কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।