ঢাকা: মেগা প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নয়, প্রকৌশলীদের পরিকল্পনাই মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য সরকারের চেয়ে সাধারণ মানুষের নিয়ম না মানার প্রবণতাই বেশি দায়ী। পরিকল্পনা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ এবং অবকাঠামোর চারপাশে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন গড়ে ওঠায় রাজধানীর সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীতে ‘প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সফলতা ও ব্যর্থতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে মেগা প্রকল্প নিয়ে প্রায়ই ব্যয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এসব প্রকল্পের ব্যয় কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নির্ধারণ করেন না; প্রকৌশলীদের কারিগরি নকশা, সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতেই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়।
রাজধানীর নগরায়ণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বা অন্যান্য পরিকল্পনা না মেনেই সড়ক ও অবকাঠামো ঘিরে আবাসন গড়ে উঠেছে। ফলে পরবর্তীতে সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ উন্নয়ন বা অন্যান্য নগরসেবা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর আবাসন ও নাগরিক সেবার চাহিদা বিবেচনায় সরকার এখন ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও টেকসই নগর পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে অবকাঠামো নির্মাণে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি সবাইকে সরকারি বিধিমালা ও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে ঘরবাড়ি নির্মাণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ে নিয়ম না মানলে সরকারের পরিকল্পনাও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রকৌশলীদের আবাসিক ভবনের নকশায় সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন ভবন নির্মাণের সময় থেকেই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে জ্বালানির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে প্রকল্প পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই নগর উন্নয়ন নিয়ে প্রকৌশলী, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।