Wednesday 08 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে জাতীয় বৃক্ষমেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ জুলাই ২০২৬ ১৮:১৩

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

ঢাকা: ড্রোনের চোখে ডিজিটাল বনায়ন পর্যবেক্ষণ আর সাড়ে ৩ লাখ মানুষের সবুজ কর্মসংস্থানের বড় লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় বৃক্ষমেলা।

বুধবার (৮ জুলাই) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ তথ্য জানান।

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী এই ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ এবং ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশের বনায়ন আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ‘আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশে বৃক্ষরোপণকে সর্বপ্রথম একটি রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন এবং ১৯৭৯ সালে প্রথম জাতীয় বন নীতি প্রণয়ন করেন।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে জাতীয় বৃক্ষমেলার ঐতিহাসিক পথচলা শুরু করেন। তিনি অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক বনায়নের এক অনন্য দিগন্তের উন্মোচন করেছিলেন।’

পরিবেশমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি মহাপরিকল্পনা সফল করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ফলে দেশের অর্থনীতিতে সাড়ে ৩ লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে।’

মেলার পরিধি সম্পর্কে তিনি জানান, ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের ৭টি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। ঢাকায় মূল মেলায় সর্বমোট ১২০টি স্টল থাকবে।

পরিবেশ দূষণ রোধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে পরিবেশমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৫২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে ২৩ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে গত ৪ মাসে ৫৮১ একরের বেশি জবরদখলকৃত বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব বিষয়ক নির্দেশিকা ২০২৬ এবং সিসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইউনিসেফের সহায়তায় একটি ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর