পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়া পৌঁছেছেন। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সোমবার (৮ জুন) মস্কোতে বৈঠক করবেন তিনি।
সোমবার (৮ জুন) মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।
মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম ও রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাদেরকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। সফরকালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়াও সফরকালীন রাশিয়ার সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথেও মাননীয় মন্ত্রী ও উপদেষ্টা সাক্ষাৎ করবেন।
খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারে মতো ৭ জুন রাশিয়া সফরে গেছেন। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সের্গেই লাভরভ ঢাকা সফরে এসেছিলেন।
এদিকে ঢাকার রাশিয়া দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোমবার নির্ধারিত আলোচনায় উভয় পক্ষ রাশিয়া-বাংলাদেশ সহযোগিতার অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক এজেন্ডার বর্তমান বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে। এই সফরের কর্মসূচিতে বিশিষ্ট অতিথির সঙ্গে রুশ ফেডারেশনের ফেডারেল অ্যাসেম্বলির ফেডারেশন কাউন্সিলের নেতৃত্বের একটি বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ায় মস্কোর দীর্ঘদিনের অংশীদার। ১৯৭২ সালে রাশিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল এবং উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করেছিল। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে, সোভিয়েত নৌবাহিনী বাংলাদেশের প্রধান বন্দর চট্টগ্রামের জলসীমা থেকে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও মাইন অপসারণ করেছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। উচ্চ পর্যায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
এর আগে, গত বছর ২৭ মার্চ চীনে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার সাইড লাইনে রুশ ফেডারেশনের উপ-প্রধানমন্ত্রী এ. এল. ওভারচুক এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে এক বৈঠক হয়। এছাড়া রাজনৈতিক ইস্যুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার বিষয়ে আলোচনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সংসদ পুনরায় শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতিসংঘ, এর বিশেষায়িত সংস্থা এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক কাঠামোর মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা স্থাপিত হয়েছে। টানা বেশ কয়েক বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে ২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
রাশিয়ার প্রধান রফতানি পণ্যগুলো হলো শিল্প সরঞ্জাম, খনিজ সার এবং গম। রাশিয়া প্রধানত বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক এবং সামুদ্রিক খাবার আমদানি করে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য যৌথ প্রচেষ্টা সমন্বয়ের প্রধান মাধ্যম হলো বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য আন্তঃসরকারি রাশিয়া-বাংলাদেশ কমিশন। এখন পর্যন্ত এটি চারটি বৈঠক করেছে, যার সর্বশেষটি ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। এই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের প্রধান আকর্ষণ হলো বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুরের নির্মাণ। এর প্রথম পাওয়ার ইউনিটটি ২৮ এপ্রিল চালু করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটিও এ বছর চালু হতে পারে। সম্পূর্ণরূপে চালু হলে, এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ করবে। রাশিয়ার প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের পারমাণবিক শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, যার জন্য যোগ্য দেশীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে প্রচলিত জ্বালানি খাতে রাশিয়ার দক্ষতার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ২০১২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে, পিজেএসসি গ্যাজপ্রমের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড বাংলাদেশের গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে প্রায় ২০টি কূপের জন্য টার্নকি প্রকল্প খনন ও সম্পন্ন করেছে। শিক্ষা খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফেডারেল বাজেটের অর্থায়নে রাশিয়ায় নিজ দেশের নাগরিকদের পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ১৮৫টি বৃত্তি বরাদ্দ করা হয়েছে।