ঢাকা: কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সংসদ কোনো আন্দোলনের ময়দান নয়, এখানে নিয়ম মেনে কথা বলতে হবে। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬’ বিল পাসের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ উত্তেজিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্পিকার তাকে এ কথা বলেন।
বিলের সংশোধনী নিয়ে বিরোধীদলের আপত্তির মুখে হাসনাত আব্দুল্লাহ উত্তেজিত হয়ে পড়লে স্পিকার তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না, মিস্টার আব্দুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট।
তিনি বলেন, এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে। আর এখানে মৌখিক কথাবার্তার সুযোগ খুবই কম। নোটিশ দেবেন, আমরা সেই নোটিশের ওপর সিদ্ধান্ত দেব।
সংসদের বর্তমান পরিবেশকে ‘বিরল’ উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় সদস্যরা, এই সংসদে ৯০টি বিল পাস করা হয়েছে, একটি মাত্র বাকি।
তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে যে চমৎকার সমঝোতা দেখা যাচ্ছে, তা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল। আমার অনেক বয়স হয়েছে, আগের ছয়টি সংসদ দেখেছি। অতীতের সংসদগুলোতে কী ধরনের অশ্লীল বাক্য বিনিময় হতো, তা এই সংসদের পুরনো সদস্য শাহজাহান ও গাজী নজরুল ইসলাম সাহেবদের জিজ্ঞাসা করলেই জানবেন। সেই তুলনায় এই সংসদের শুরুটা অনেক ভালো হয়েছে।
বিরোধীদলের আপত্তির বিষয়ে স্পিকার বলেন, আইনমন্ত্রী যে কথাটি বলেছেন, তা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। আপনারা দরকার হলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী অধিবেশনে একটি সংশোধনী বিল আনেন, সরকার নিশ্চয়ই তা বিবেচনা করবে। আমরা এই স্পিরিট অব কো-অপারেশন (সহযোগিতার মনোভাব) নিয়ে সামনে এগোতে চাই।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো মতভিন্নতা। না হলে তো দেশে একটিই দল থাকত। এই সংসদে ৩-৪টি দল প্রতিনিধিত্ব করছে। স্পিকার হিসেবে আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি, বিরোধী দল যেন তাদের ন্যায্য অধিকার পায়, তা দেখতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
বক্তব্যের শেষ দিকে স্পিকার বর্তমান সংসদের বৈধতা ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি বড় গণঅভ্যুত্থানের পর এবং একটি ফেয়ার ইলেকশনের মাধ্যমে আমরা সবাই এখানে এসেছি। এই সংসদে ৭৭-৭৮ জনের এক বিশাল বিরোধী দল আছে, যা সচরাচর দেখা যায় না। সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। আসুন, আমরা আমাদের সব মতানৈক্য কমিয়ে এনে একসঙ্গে কাজ করি।