Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা সরকারের লক্ষ্য’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১৫ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৭

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও স্পোর্টস অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদে সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন (ঢাকা-১৮)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার একটি নির্দিষ্ট খাত নয়, বরং বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করেছে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রফতানি, প্রবাসী আয়, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবগুলো ক্ষেত্রকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব কমাতে উৎপাদন, নির্মাণ, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে কাজের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এতে পারিবারিক আয় বৃদ্ধি পাবে এবং ধীরে ধীরে মাথাপিছু আয়ও বাড়বে।

বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ সহজ করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নতুন কারখানা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সহজ অর্থায়ন, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান এবং বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং নতুন আয়ের পথ তৈরি হবে।’

তিনি জানান, রফতানি বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের জন্য রফতানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের কাজ চলছে। একইসঙ্গে প্রবাসী আয় বাড়াতে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামীণ আয় বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙা হবে।

তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের একটি অংশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, আর বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের আয় বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।’

সারাবাংলা/এমএমএইচ/পিটিএম