ঢাকা: বাংলাদেশে জাপানের বিশ্ববিখ্যাত ও অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘স্টিকি রাইস’ (আঠালো চাল) উৎপাদনে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আধুনিক কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বর্তমান সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ বলেন, জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ উন্নয়ন সহযোগী এবং বিশ্বস্ত বন্ধু রাষ্ট্র। জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকার মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দীর্ঘ সময় ধরে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। জাপানি প্রযুক্তিতে স্টিকি রাইস উৎপাদন বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মন্ত্রী দেশের কৃষি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের বড় বড় নদীর অববাহিকায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের উর্বর জমিতে রফতানিমুখী মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব উর্বর ভূমিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে জাপানের সহযোগিতা পেলে উৎপাদন বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে রফতানিমুখী কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষে জাপানের প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশের মৎস্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের কৃষি খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, জাইকার মাধ্যমে কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপান ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কেবল সরকারি পর্যায় নয়, জাপানের বেসরকারি খাতও এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, উন্নত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জাপানি কোম্পানিগুলো বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহী বলে তিনি মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।
এই সহযোগিতার ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে।