Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর
গুরুত্ব পাবে জ্বালানি, ভিসা ও গঙ্গা চুক্তি

অপূর্ব কুমার, ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৫ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৩

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: আগামী ৭ এপ্রিল ভারত সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তার নয়াদিল্লি যাত্রার মাধ্যমে শুরু হবে বর্তমান সরকারের প্রথম শীর্ষ কর্তাব্যক্তির প্রথম ভারত সফর। এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং দেশটির বাণিজ্য ও জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন খলিলুর। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে যেমন উৎসাহ রয়েছে, তেমনি পশ্চিমা বিশ্বসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে।

কূটনীতিক সূত্রগুলো বলছে, ড. খলিলুর রহমানের দুই দিনের সফরকে নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দু্ই দেশের কূটনীতিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ বা সম্পর্কের বরফ গলাতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কূটনীতিক জানিয়েছে, খলিলুর রহমানের চলতি সফরে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়ালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। সেখানে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা। এ ছাড়া, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, দুই দেশের মধ্যে চলমান ভিসা জটিলতা, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের ভারতের পর্যটন ভিসা ফের চালু, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে। একইভাবে সম্প্রতি ভারতে গ্রেফতার শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও বাংলাদেশ তুলতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও বাংলাদেশে জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারত থেকে আরও জ্বালানি (বিশেষ করে ডিজেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য) আমদানির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে। এ নিয়ে ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী হরদ্বীপ পুরির সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক হতে পারে।’

গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি

১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিন দশক মেয়াদি পানিবণ্টন চুক্তি হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে চুক্তিটি সই হয়। মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিদল উভয় দেশে চুক্তিটির জলবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করছে। চলতি সফরে নতুন চুক্তির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনায় আসতে পারে। এ চুক্তিতে পানিপ্রবাহে জলবায়ুগত প্রভাব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে যদি চুক্তি হতে হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারকে এতে সম্মতি দিতে হবে।

ভিসা সুবিধাকরণ

ভারত-বাংলাদেশ ভিসা সেবা স্বাভাবিক করা ও মানুষের যাতায়াত সহজ করার বিষয়টি আলোচনায় অন্যতম ইস্যু বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ভারতের পর্যটনে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বেশি। একইভাবে দেশটির মেডিকেল ট্যুরিজমেও বাংলাদেশের বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ও জরুরি ছাড়া সবধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয়। অন্তবর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে বিভিন্ন সময়ে ভিসা জটিলতা কাটানোর দাবি জানানো হয়েছিল। এবারও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে ভিসা জটিলতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনায় আসতে পারে।

এদিকে নয়াদিল্লির এক কূটনীতিক সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সবচেয়ে চিন্তার বিষয় ছিল দেশটির নিরাপত্তা। ভারতের সঙ্গে চার হাজার বর্গকিলোমিটারের ওপর সীমান্ত ভাগ করা দেশে রাতারাতি সরকারের পতন এবং বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতা সেন্টিমেন্ট বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন ছিল নয়াদিল্লি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর ভারত শুরু থেকেই শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা শুরু করে। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন থেকে শপথ নেওয়ার দিন ভারতের সরব উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের শীতলতা কাটাতে শুরু করে। এর পর আস্তে আস্তে দুই দেশের যোগাযোগ বাড়তে থাকে।

সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেছেন, ‘ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করে, অথবা স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কাজ বাংলাদেশ করবে না। এমন পরিস্থিতি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফর নিয়ে এই সফরে আলোচনা হবে। এ ছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২৭-এর সভাপতি পদের জন্য বাংলাদেশ নমিনেশন দিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে। তিনি এ ক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা চাইতে পারেন- এমনটিই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ভারতে ব্যস্ত সময় কাটিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’ বা ‘ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে’ যোগ দিতে মরিশাসের উদ্দেশে ভারত ছাড়বেন। মরিশাস সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তানের ইসলামাবাদ হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর