ঢাকা: ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। যার মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রবাস খাত বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রণিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানো একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচনি ইশতেহারে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
এরইমধ্যে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রুমানিয়া, সিসেলস, পর্তুগাল, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক/চুক্তি সই হয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও আন্তর্জাতিক জনশক্তি উন্নয়ন সংস্থা, জাপান (আইএম-জাপান)-এর মধ্যে সই করা সমঝোতা স্মারকের আওতায় জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপানের মধ্যে সই করা চুক্তির আওতায় আগামী ৫ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং অধিকহারে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে এ মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ নামে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ফেরত আসা কর্মীদের পুনরায় বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পূর্ববর্তী শিক্ষা কাজের স্বীকৃতি এবং তার সনদ দেওয়া হচ্ছে, ফলে বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
১ লাখ চালক তৈরির জন্য সরকার ‘দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা সফলভাবে চলমান রয়েছে। কম্বোডিয়ার সঙ্গে আলোচনার কার্যবিবরণী (আরওডি), জাপানের সঙ্গে স্পেশালাইজ স্কিলড ওয়ার্কার পাঠানোর জন্য সহযোগিতা স্মারকলিপি এবং সিসেলসের সঙ্গে শ্রম সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। জাপান স্পেশালাইজড স্কিলড ওয়ার্কার সেন্ডিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৯ম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
আরিফুল হক বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লি. (বোয়েসেল) এর মাধ্যমে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফিজি, মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিয়মিতভাবে স্বল্প খরচ/বিনা খরচে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬টি ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে (আইএমটি) ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব দক্ষ জনবলের দেশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বিএমইটির আওতায় ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ডিটিটিআই) এ বিদেশি ভাষা ও দক্ষতা কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের গন্তব্য দেশের ভাষাগত সমস্যা দূরীকরণে জাপানিজ, কোরিয়ান, ইংরেজি, চায়নিজ (ক্যান্টনিজ) ও (ম্যান্ডারিন), আরবি, ইতালিয়ান, জার্মান ইত্যাদি ভাষার নেটিভ স্পিকার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএমইটি ও সৌদি আরবস্থ কোম্পানি তাকামলের মধ্যে সই করা চুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রামের (এসভিপি) আওতায় ২৯টি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৭৯টি অকুপেশনে দক্ষতা যাচাই পরিচালনা করা হচ্ছে।