ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। আগের দিনের অধিবেশনে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
এদিন প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, আগের দিন সংসদ থেকে বিরোধী দল বের হয়ে যাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে অসত্য বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল আমরা কক্ষ ত্যাগ করার পর মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দয়া করে বলেছেন- আমি অসত্য কথা বলেছি। আল্লাহ তাকে অসাধারণ এক দক্ষতা দিয়েছেন। তিনি বোতল বদলে ভেতরের জিনিস একই রেখে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। আমি আজ শুধু তাকে ধন্যবাদ জানাতেই দাঁড়িয়েছি।’
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করে বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার বর্তমান বিষয়ের ওপর হওয়া উচিত, অতীতের আলোচনা নতুন করে তোলার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গতকালই নিষ্পত্তি হয়েছে। এটি আবার তোলার প্রয়োজন নেই।’
একই সঙ্গে স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব না দেওয়ার পরামর্শও দেন। তিনি আরও জানান, বিরোধীদলীয় নেতা যদি মূল মন্তব্যের সময় কক্ষে উপস্থিত থাকতেন, তাহলে তখনই তাকে ‘রাইট অব রিপ্লাই’ দেওয়া হতো।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজের বক্তব্য দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার ব্যবহৃত শব্দচয়ন নিয়ে আপত্তি জানান।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন, বিশেষ করে ‘মিথ্যা’ শব্দটি। তিনি যদি ‘অসত্য’ বলতেন, তাহলে আমার আপত্তি থাকত না। আমি অনুরোধ করছি, ‘মিথ্যা’ শব্দটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হোক।’
এ সময় নিজের আগের দিনের অবস্থান ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের দাবি তথ্যগতভাবে সঠিক ছিল না।
তিনি জানান, বিরোধী দলের ওয়াকআউটের অনেক পরে স্পিকার সংসদীয় বিধির ৬২ ধারা অনুযায়ী একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সেটি আগে থেকেই উত্থাপিত বা পাঠ করা হয়েছে—এভাবে কীভাবে বলা যায়? তাই আমি এখনও বলছি, তার বক্তব্য অসত্য ছিল।’
এর জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভ্রান্তির কারণ হলো একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র এমপি ভিন্ন নামে উপস্থাপন করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রস্তাব একই ছিল, শুধু নাম বদলেছিল। আমি যে সংস্করণটি আগে জানতাম, তার ভিত্তিতেই কথা বলেছি। আমি কোনো ভুল তথ্য দেইনি।’
যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিথ্যা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে স্পিকার তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংসদীয় রীতিতে ‘মিথ্যা’ শব্দের পরিবর্তে ‘অসত্য’ শব্দ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে, যা অতীতের একাধিক রুলিংয়েও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
জানা গেছে, সংসদে এই উত্তেজনার পেছনের সূত্রপাত গত ২৯ মার্চের একটি ঘটনায়। সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের বৈঠক নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনেন।
পরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে আরেকটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
এ দুটি প্রস্তাব মুলতবি থাকা অবস্থায় বুধবার সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক একই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন একটি মুলতবি প্রস্তাব আনেন, যা স্পিকার গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় নিজেদের মূল প্রস্তাব উপেক্ষা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে বুধবার বিরোধী দল ওয়াকআউট করে।
নতুনভাবে গৃহীত প্রস্তাবের ওপর আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।