Thursday 02 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত ২০

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১১

সড়ক দুর্ঘটনা। ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশে এবার ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ১৪ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২০ জন। এ সময়ে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৯৮ জন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন পাঠানো এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংস্থাটি নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, গতবছরের ঈদুল ফিতরে ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই বছর ১১ দিনের ঈদযাত্রায় ২৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হন। এবারের ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ১১৬ জন, বাসযাত্রী ৪১ জন, ট্রাক-পিকআপ আরোহী ১৩ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২০ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৫০ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী নয় জন এবং বাইসাইকেল আরোহী দু’জন নিহত হয়েছেন। আর মোট আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।

বিজ্ঞাপন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১৫টি (৩০ দশমিক ৮৩ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১৬১টি (৪৩ দশমিক ১৬ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৮টি (১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ৪২টি (১১ দশমিক ২৬ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং সাতটি (১ দশমিক ৮৭ শতাংশ) ফেরিঘাটসহ অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ ভোরবেলা, ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ সকালে, ২৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ দুপুরে, ১৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ বিকেলে, ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ সন্ধ্যায় এবং ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ ঘটেছে রাতে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে এই বিভাগে। এরপরই আছে ঢাকা বিভাগ। ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ২৪ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে এই বিভাগে।

সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে ১০টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এগুলো হলো: ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে অন্তত তিন বছর মেয়াদি সমন্বিত পরিবহণ পরিকল্পনা গ্রহণের ১২টি সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সেগুলো হলো-

  • জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি) পুনর্গঠন করে এই কাউন্সিলের অধীনে বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএ পরিচালনা করতে হবে। কাউন্সিলের হাতে আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা থাকতে হবে।
  • বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং এসব টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।
  • মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
  • সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে।
  • রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
  • বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিবহনসেবা উন্নত করে সরকারের পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
  • দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধি করে তাঁদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
  • স্বল্পগতির ছোট যানবাহনের জন্য সব মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণসহ নিরাপদ রোড ডিজাইন করতে হবে।
  • সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ করতে হবে।
  • সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে ও দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।
  • প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ, তাঁরা জনপ্রশাসন পরিচালনা ও নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
  • টেকসই পরিবহণ কৌশলের অধীনে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহণ একত্র করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর