Sunday 22 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের আনন্দে চিড়িয়াখানায় উপচে পড়া ভিড়, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

নাজনীন লাকী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৯ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ১৯:১৮

পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে দর্শনার্থীরা। ছবি: সিনিয়র ফটোকরেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান।

ঢাকা: মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, মাঝেমধ্যে ঝরছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এর মধ্যেও ঈদ আনন্দে দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায়। নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজির হয়েছেন চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গনে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেছেন, আর আজ দর্শনার্থীর সংখ্যা দেড় থেকে দুই লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে দর্শনার্থীরা। ছবি: সিনিয়র ফটোকরেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান।

পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে দর্শনার্থীরা। ছবি: সিনিয়র ফটোকরেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান।

‎আজ রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৯টায় চিড়িয়াখানা খোলার আগেই প্রধান ফটকের সামনে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সময় যত গড়িয়েছে, ভিড় তত বেড়েছে। টিকিট কাউন্টারের সামনে নারী, পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ লাইন অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকেই পরিবার নিয়ে ঈদের দিনগুলোতে ঘুরতে বের হয়ে চিড়িয়াখানাকে বেছে নিয়েছেন। চিড়িয়াখানার সামনে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও সিএনজির অতিরিক্ত চাপের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে আশপাশের সড়কগুলোতেও ধীরগতির যান চলাচল দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন
শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ছবি: সিনিয়র ফটোকরেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান।

শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ছবি: সিনিয়র ফটোকরেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান।

বাঘ, সিংহ, জিরাফ, ভাল্লুক, হরিণ, জলহস্তি, গন্ডার দেখে অনেকেই যেন ফিরে গেছেন শৈশবে। সাধারণ মানুষ বলছেন, লম্বা ছুটিতে এবার ঈদ উদযাপন হচ্ছে মন খুলে। শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় উপভোগ করেছেন।



‎ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানা যেন পরিণত হয়েছে শিশুদের আনন্দমেলায়। চারদিকে শুধু শিশুদের হাসি, কোলাহল আর উচ্ছ্বাস। কোথাও বাবার কাঁধে বসে বাঘ দেখছে ছোট্ট শিশু, কোথাও মায়ের হাত ধরে দৌড়ে যাচ্ছে বানরের খাঁচার সামনে, আবার কোথাও পুরো পরিবার মিলে ছবি তুলছে স্মৃতি ধরে রাখতে।

চারদিকে শুধু শিশুদের হাসি, কোলাহল আর উচ্ছ্বাস। ছবি: সিনিয়র ফটোকরেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান।

চারদিকে শুধু শিশুদের হাসি, কোলাহল আর উচ্ছ্বাস। ছবি: সিনিয়র ফটোকরেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান।

‎‎চিড়িয়াখানার ভেতরে ঢুকলেই দেখা যায় অনেক বাবা তাদের সন্তানকে কাঁধে তুলে নিয়ে প্রাণী দেখাচ্ছেন, যাতে ভিড়ের মধ্যেও শিশুরা সহজে দেখতে পারে। বাবার কাঁধে বসে দূর থেকে জিরাফ দেখিয়ে দিচ্ছেন, ‘ওই দেখ জিরাফ’, আর শিশুর বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকা এ যেন এক অন্যরকম আনন্দের দৃশ্য।

‎বাঘের খাঁচার সামনে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়। সেখানে বাবার কাঁধে বসে এক শিশু চিৎকার করে বলছিল, ‘বাবা, বাঘ নড়ছে!’ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনও শিশুটির আনন্দ দেখে হাসছিলেন। হাতির সামনে গিয়েও শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতি যখন নড়াচড়া করছিল, তখন অনেক শিশুকে হাততালি দিতে দেখা যায়।



‎শিশুদের হাসি, বাবার কাঁধে বসে প্রাণী দেখা, পরিবার নিয়ে ছবি তোলা সব মিলিয়ে চিড়িয়াখানার প্রতিটি কোণ যেন হয়ে ওঠেছে পারিবারিক আনন্দের এক সুন্দর মিলনমেলা। ঈদের আনন্দের বড় একটি অংশ যেন শিশুদের এই ছোট ছোট আনন্দের মধ্যেই ফুটে ওঠেছে।

‎চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা সালাম আহমেদ বলেন,‎‘আমাদের ছোটবেলায় বাবা আমাদের চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসতেন, এখন আমি আমার সন্তানকে নিয়ে এসেছি। ওকে কাঁধে তুলে প্রাণী দেখাচ্ছি- এটাই সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত।’



‎কাঁচপুর থেকে ঘুরতে আশা সামিয়া বলেন, ‎‘বাচ্চারা মোবাইলে কার্টুন দেখে, বইয়ে ছবি দেখে। কিন্তু বাস্তবে প্রাণী দেখার আনন্দ আলাদা। তাই ঈদের ছুটিতে ওদের নিয়ে এখানে এসেছি।’

গাজীপুর থেকে চিড়িয়াখানাতে আসা দর্শনার্থী মো. রাশেদ বলেন, ‎‘ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। অনেক ভিড়, তারপরও বাচ্চারা খুব আনন্দ পাচ্ছে।’

‎এ সময় দর্শনার্থী সুমি আক্তার বলেন, ‎‘অনেক দিন পর পরিবার নিয়ে একসঙ্গে ঘুরতে বের হলাম। ভিড় বেশি হলেও পরিবেশ ভালো লাগছে। তবে টিকিট কাউন্টারে আরও ব্যবস্থা বাড়ানো দরকার।’



‎‎মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা আরেক দর্শনার্থী জামান বলেন, ‎‘অনেক দিন পর পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বাইরে বের হলাম। ভিড় অনেক, টিকিট কাউন্টারে সময় লেগেছে। তারপরও ভালো লাগছে।’

‎একজন শিক্ষার্থী শাওন বলেন, ‎‘বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। ঈদের সময় ঢাকায় তেমন ঘোরার জায়গা নেই, তাই চিড়িয়াখানায় এসেছি। তবে ভিড়ের কারণে অনেক জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রাণী দেখতে হয়েছে।’



‎‎জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছেন।

‎কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ঈদের পুরো ছুটিজুড়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী প্রত্যাশা করছেন তারা। এছাড়া দর্শনার্থীদের ধৈর্য ধরে টিকিট সংগ্রহ, লাইনে দাঁড়ানো এবং প্রাণীদের বিরক্ত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে রাজধানীবাসীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হয়ে ওঠেছে ঢাকা চিড়িয়াখানা। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটাতে মানুষের ঢল নামায় চিড়িয়াখানা এলাকাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

নাজনীন লাকী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর