Friday 20 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বৃষ্টিময় রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা, নগরবাসীর স্বস্তির নিঃশ্বাস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২০ মার্চ ২০২৬ ২০:০২ | আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ২০:০৬

ঢাকা: আকাশ ভাঙা বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া এর সঙ্গে হটাঠ বজ্রপাত। প্রকৃতি যেন শেষ মুহূর্তে এসে একটু বাগড়া দিতেই চাইল। কিন্তু বাঙালির ঈদ বলে কথা! মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লেও যেন আনন্দ থামবার নয়। রাজধানীর রাজপথে আজ সেই চিরাচরিত দৃশ্যেরই দেখা মিলল, একদিকে দুর্ভোগ, অন্যদিকে উৎসবের অদম্য জেদ।

মেঘলা আকাশ, ঝোড়ো হাওয়া

ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসব পালনে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন নগরবাসীর বড় একটি অংশ। ফলে সারা বছর যেমন থাকে, সেই তুলনায় ঢাকার চিত্র এখন একেবারেই ভিন্ন।

আজ হঠাৎ করেই ঢাকার আকাশ কালো করে নামে বৃষ্টি। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ এবং শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় বের হওয়া ক্রেতারা। কারণ সড়ক এতটাই ফাঁকা যে কোথাও কোথাও সড়ক কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেও তেমন যানবাহন দেখা যাচ্ছে না। আর ঈদের ছুটিতে গণপরিবহনের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। লোকাল বাসের সংখ্যা খুবই কম। যেগুলো চলছে সেগুলোও অনেক সময় পরপর পাওয়া যাচ্ছে। এতে যারা এখনো ঢাকায় আছেন, তাদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বাসের জন্য।

বিজ্ঞাপন

দুর্ভোগ যখন আনন্দের অংশ

রাস্তায় জমে থাকা পানি আর কাদা মাড়িয়েই মানুষকে ছুটতে দেখা গেছে বড় বড় শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আশিক ইসলাম এক হাতে ছাতা আর অন্য হাতে ঈদের নতুন জুতা বা পাঞ্জাবির প্যাকেট সামলে হাসিমুখে ঘরে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ঈদ বলে কথা, বৃষ্টি তো আসবেই, কিন্তু ঈদ তো বছরে একবার। একটু ভিজলে কি আর আনন্দ কমে?’

বিপাকে ভাসমান বিক্রেতারা ও রিকশা চালকরা

বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রাস্তার ফুটপাতের ধারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। টুপি, আতর, জায়নামাজ কিংবা সেমাই-চিনির পসরা সাজিয়ে যারা বসেছিলেন, বৃষ্টির ঝাপটায় তাদের অনেক মালামাল ভিজে গেছে। তবুও বৃষ্টি একটু কমলেই আবার পলিথিন সরিয়ে ক্রেতাদের ডাকতে শুরু করছেন তারা। কারণ কাল ঈদ, আজই তো বিক্রির শেষ সুযোগ।

এদিকে এ অসময়ের বৃষ্টিতে বেশি বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালকরা। কিছু অতিরিক্ত টাকার আশায় তারা দিনভর বৃষ্টির মাঝেই ভিজে ভিজে রিকশা চালিয়েছেন। তবে ফাঁকা রাস্তায় কোনো জ্যাম না থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেন রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম।

প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ ঈদযাত্রায় কিছুটা দুর্ভোগ আনলেও, মানুষের মনের ভেতরের খুশিতে তা পানি ঢালতে পারেনি। বরং বৃষ্টির পর ধুয়ে যাওয়া শহরটা যেন এক স্নিগ্ধ রূপ ধারণ করেছে, যা আগামীকালের ঈদের সকালকে আরও সতেজ করে তুলবে।

সারাবাংলা/এনএল/এসএস
বিজ্ঞাপন

ঈদে এনসিপি নেতারা কে কোথায়
২০ মার্চ ২০২৬ ২০:৩৭

আরো

সম্পর্কিত খবর