Friday 20 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের প্রধান জামাত আদায়ের জন্য প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ

মেহেদী হাসান স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৪

ঢাকা: ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত আদায়ের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এখানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রচণ্ড রোদ বা বৃষ্টি থেকে মুসল্লিদের রক্ষা করতে মাঠজুড়ে ওয়াটারপ্রুফ সামিয়ানা ও ত্রিপল টানানো হয়েছে। গরমে যেন আগত মুসল্লিদের কষ্ট না হয় সে জন্য আলাদা ফ্যানের এবং কুলিং সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের একটি দল এবং অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে। ১৪০ জন মুসল্লির একসঙ্গে ওযু করার জন্য পর্যাপ্ত পানির ট্যাঙ্ক এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ছাড়া, ঈদগাহ ময়দানের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও শেষ।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় ঈদগাহ ময়দান সাজাতে এবার আনুমানিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক কোটি ৭ লাখ টাকা। পি আর এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মাঠ প্রস্তুতের কাজ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি রাশেদুল হক জানান, মাঠের প্যান্ডেল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ। এই বিশাল কাঠামোকে মজবুতভাবে ধরে রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ টনের বেশি রশি। এ ছাড়া বৃষ্টি থেকে মুসল্লিদের রক্ষা করতে প্যান্ডেলের ওপর প্রায় ১ হাজার ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল টানানো হয়েছে। অন্ধকার কাটাতে মাঠে লাগানো হয়েছে প্রায় ৯০০টি টিউবলাইট। ফ্যান লাগানো হয়েছে ১১০০ এর অধিক। পুরো মাঠে সর্বমোট ১২১টি কাতার করা হয়েছে।

এবারের ঈদগাহ ময়দানে জামাতের অন্যতম আকর্ষণ হলো কয়েক যুগ পর এবার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। এ ছাড়া, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই জামাতে অংশ নেবেন। ঈদগাহে ভিআইপি ব্যক্তি ৩৩০ জনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবার ঈদগাহ ময়দানে নারী ও পুরুষ সহ প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির একসাথে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও বিশেষ পর্দা দিয়ে আলাদা নামাজের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে ঈদগাহ প্রস্তুত করেছি। মুসল্লিরা যাতে সুন্দর পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা সম্পন্ন। আমরা আশা করছি একটি উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ঈদের জামাত আদায় করবেন।

আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা অতিবৃষ্টির কারণে ঈদগাহে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস না থাকায় জাতীয় ঈদগাহেই মূল প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ৮ থেকে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে। যদি ঈদের দিন ২৫ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টি হয় এবং সেটি ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা স্থায়ী হয় তাহলে নামাজের জায়গা পরিবর্তন করা হবে। বৃষ্টির কারণে নামাজের স্থান পরিবর্তন করা হলে সেটি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের কথা মাথায় রেখে ঈদগাহ ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং র‍্যাবের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের মেটাল ডিটেক্টর এবং আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে আর্চওয়ে পার হয়ে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হবে। জায়নামাজ এবং ছাতা ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাদা পোশাকে থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি।

ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারপরেও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মনিটরিং করছে। সেই অনুযায়ী আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য।

পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ঘিরে র‌্যাবও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছে। র‌্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব সারা দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

তিনি জানান, ব্যাটালিয় নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রেখেছে। সারা দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য রয়েছে র‌্যাবের কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ফুট ও মোবাইল পেট্রোল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, অবজারভেশন পোস্ট, চেকপোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিং।

বিজ্ঞাপন

আরো

মেহেদী হাসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর